জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
অসহায়-দুস্থ কর্মহীনদের পাশে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী সাধারণ ছুটিতে বাড়ল ব্যাংক লেনদেনের সময় দিল্লিতে তাবলিগ থেকে ৯ হাজার ভারতীয় করোনার ঝুঁকিতে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ২০ কোটি টাকা দেবে পুলিশ ‘কিছুদিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হবে ১০ লাখ মানুষ’ প্রত্যেক উপজেলা থেকে অন্তত দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তিন মাসের বাড়ি ও দোকান ভাড়া মওকুফ করতে হবে :মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরো দুজন আক্রান্ত, নতুন কোনো মৃত্যু নেই সংসদ ভবনে হচ্ছে না সাবেক ভূমিমন্ত্রীর জানাজা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল: আইসোলেশনে দুই রোগীর মৃত্যু, করোনা সন্দেহে জটিলতা

গাজীপুরের শ্রীপুরে দড়িতেই বাঁধা হতদরিদ্র শিশু মিতুর জীবন

খবরের আলো :

শ্রীপুর (গাজীপুর )প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরের নিজ মাওনা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মিতু (৮), জন্মের ছয় মাস পরই অসুস্থ হয়ে মা মারা যান, মা হারানোর পর বাবা স্বপন মিয়াও অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা হয়ে যান। জন্মের পর থেকে এতই অভাগা ছিল শিশুটির জীবন যে দাদা ও দাদীও তাকে ভরনপোষন করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে মানবিকতায় এগিযে এসেছিল শিশুটির  এক স্বজন সম্পর্কে বড় মা (বাবার দাদী) জয়গন নেছা। দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে কোন মতে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে শিশুটি কোনমতে আলো বাতাসের সংস্পর্শে বেঁচে থাকলেও সে পাইনি কোন মৌলিক চাহিদার ছোঁয়া। জন্মের পর থেকে এই শিশু মিতুর জীবন কাটছে কখনও অনাহারে কখনও অর্ধাহারে। সে যাতে অন্যত্র চলে যেতে না পারে সে জন্য তার পায়ে পড়ানো হয়েছে শিকল। এখন অনেকটা যেন শিকলে আটকে রয়েছে তার ভবিষ্যত জীবন।

নিজমাওনা গ্রামের জয়গন নেছার এক জীর্ণ কুটিরের সামনের খোলা আঙিনায় এখন অনেকটা হেলায় অবহেলায় দিন কাটছে শিশুটির। শরীরে ভর করেছে নানা ধরনের অসুখ। প্রতিনিয়ত যেন শিশুটি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

শিশুটির স্বজন সত্তোরোর্ধ বয়সের জয়গন নেছা বলেন,আমি নিজেই চলতে পারি না, নিয়মিত খাবারও জোটে না। তারপরও সবাই যখন ছয়মাসের এই শিশুটিকে নিতে চাচ্ছিল না তখনই আমি তাকে নিয়ে আসি। কিন্তু তার যে চাহিদা তা তাকে দারিদ্রতার জন্য দিতে পারি নাই ,ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। আমি বৃদ্ধ মানুষ শিশুটির দেখাশোনা করতে পারিনা, উন্মোক্ত অবস্থায় থাকলে যদি অন্যত্র চলে যায় তাই তাকে শিকলে বেধে রেখেছি।

তিনি আরো জানান, শিশুটি জন্মের সময় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সুস্থ্য ছিল পরে ধীরে ধীরে তার মানসিক সমস্যা তৈরী হতে থাকে। এখন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীনদের মত আচরণ করে থাকে। অর্থের অভাবে তাকে ঠিকমত চিকিৎসা দেয়া যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও নিজের অথবা এই শিশুটির জন্য কোন সরকারী সহায়তা কার্ডের ব্যবস্থা করা যায়নি।

শিশুটি ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারানোর বিষয়ে ঢাকার শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ শাহজাহান জানান,শিশু জন্মের পর থেকে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থের দিকে নজর দিতে হয়।এই শিশুটিকে বেড়ে উঠার সময় পায়ে শিকলে বেধে রাখায় মানসিক স্বাস্থের বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়েছে। বাস্তবে শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি ঘটলেও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এখনই এই শিশুটির পায়ের বন্ধন শিকলমুক্ত করে চিকিৎসা না দিলে সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে. এ ছাড়াও শিশুটি মারাও যেতে পারে।

এ বিষয়ে শীপুরের বৃদ্ধা বন্ধু ফাউন্ডেশন নামের একটি সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সদস্য মহিদুল আলম জানান,সামাজিক ভাবে অনেকটা অবহেলার শিকার এসব হতদরিদ্ররা। যারা তাদের খোঁজ নেয়ার কথা ছিল তারা তাদের খোঁজ নেয়নি। তবে রাষ্ট্রকে এসব সামাজিক ভাবে অবহেলিত পরিবারের লোকজনের দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশা সরকার তাদের পাশে থাকবে।

শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,আমরা এ বিষয়ে অবগত নই তবে শিশুটির জন্য কেউ যদি আমাদের কাছে আবেদন করে তাহলে আমরা তার জন্য চিকিৎসা বা সরকারী সহায়তার ব্যবস্থা করব।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com