রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫০ অপরাহ্ন

পেঁয়াজের দাম কমাতে উদ্যোগ দরকার

খবরের আলো :

 

 

সবকিছুরই মাত্রা থাকা দরকার। কিন্তু এ দেশে মাত্রার তোয়াক্কা করে এখন আর কেউ চলছেন না বললে ভুল বলা হবে না। যার যেমন ইচ্ছা তিনি সেভাবেই চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নীতিনৈতিকতা এখন কেবল বইপত্রের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। সামাজিক অবক্ষয় এখন রাজপথ থেকে অলিগলিতে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ দেহের শিরা-উপশিরায় তা ছড়িয়ে পড়েছে। লুটেরাপুঁজির দৌরাত্ম্যে ক্ষতবিক্ষত আজ পুরো সমাজ। যার নমুনা পাওয়া যাচ্ছে সর্বত্র। এমনকি ভোগ্যপণ্যও সেই অনৈতিকতার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা স্পর্শ করতে চলেছে। কোনোভাবেই যেন দাম কমছে না। কমার সম্ভাবনা কতটুকু, তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই কিছু না কিছু বাড়ছে। এখন পাইকারিতেও মূল্য ছাড়িয়েছে শতক। আর খুচরাপর্যায়ে কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। বাহ্যিকভাবে দেখানো হচ্ছে মজুদ নেই। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ক্রেতাপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ টন। এর মধ্যে সংরক্ষণ পর্যায়ে ৩০ শতাংশ ক্ষতি বাদ দিলে ব্যবহার উপযোগী সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩০ লাখ টন। সে হিসেবে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে ১৩ দশমিক ৭০ লাখ টন। পেঁয়াজের ঘাটতি পুরণের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ দশমিক ৯১ লাখ টন। এ ছাড়া চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২ দশমিক ১৩ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৪ লাখ টন। এই হিসাবে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ থাকার কথা, তা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

এখানেই প্রশ্ন? তাহলে পেঁয়াজের ঝাঁজ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে কেন! কেন প্রতিদিনই বাড়ছে এই পণ্যের দাম? জবাবে বলতে হয়, ব্যবসায়ীরা তাদের সব ধরনের ব্যবসায়িক নৈতিকতা হারিয়ে আজ লুটেরার কাতারে মিলিত হয়েছেন। লুট করা যদি কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে বিধানমতে শাস্তির একটা ব্যবস্থা থাকত। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বিধান থাকলেও কার্যকারিতা নেই। তাই প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্য দিবালোকে লুটতরাজে লিপ্ত হওয়ার পরও তারা থেকে যাচ্ছে আইনের বাইরে। বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা যাদের ওপর, সম্ভবত তারা বিশেষ সুবিধার আওতায় থেকে সব কিছু দেখার পরও না দেখার ভান করে পড়ে আছেন। অথবা তাদের ক্ষমতা এতটাই ক্ষীণ যে, ব্যবসায়ীদের ক্ষমতার সামনে তারা দাঁড়াতে পারছেন না।

আবার প্রশ্ন এসে দাঁড়াতেই পারে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তাহলে কি এভাবেই চলতে থাকবে? আমরা মনে করি, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাটা আজ জরুরি। যদি বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হই, তাহলে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যত্র। তাই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই। আমরা আশা করব, সরকার বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com