রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় মানুষের ঢল

ছবি - এনআরবি নিউজ

খবরের আলো ডেস্ক :

 

 

মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর : অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার প্রথম জানাজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে এ জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীসহ অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

নামাজে জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল। নিউইয়র্ক সময় সোমবার রাতে এশার নামাজের পর কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছনোর কথা রয়েছে। অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে সাদেক হোসেন খোকাকে।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে জানাযার আগে মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা হিসেবে স্যালুট জানান সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ। তারা জাতীয় পতাকা দিয়ে কফিন আচ্ছাদিত করে দেন। স্যালুটে অংশগ্রহণকারি মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারী বকুল, সহ-সভাপতি আবুল বাশার চুন্নু ও কার্যকরি সদস্য লাবলু আনসার। কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জানাযায় এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবরউদ্দিন, সুরুজ্জামান, আব্দুল মুকিত চৌধুরী প্রমুখ।

সাদেক হোসেন খোকার নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগম। এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ফার্স্ট সেক্রেটারি শামীম হোসেন। তিনি বক্তব্য শুরুর পরই মসজিদে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় কর্মী চিৎকার শুরু করেন। খোকার পাসপোর্ট নবায়ন না করার প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি হট্টগোলে রূপ নিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আব্দুস সালাম, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমদ চৌধুরী এবং সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। বেশ কয়েক মিনিট মসজিদের ভেতরে তোলকালাম কান্ডের মধ্য দিয়ে ফার্স্ট সেক্রেটারির বক্তব্য সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সাধারণ মুসল্লীরা হতবাক। মসজিদের ভেতরে এমন আচরণকে কেউই সহজভাবে নেননি।

এ অবস্থায় ইশরাক হোসেন বলেন, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট পাসপোর্ট নবায়ন না করলেও বাবা মারা যাবার সংবাদ জানার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। এজন্যে আমি কন্স্যুলেট কর্মকর্তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আমার বাবার জন্য যা করেছেন আমার পরিবার তা মনে রাখবে। সাদেক হোসেন খোকার ছোট ছেলে ইশফাক হোসেনও ছিলেন তার পাশেই।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য প্রবাসী সাদেক হোসেন খোকার জানাযায় অংশ নেন। মসজিদের প্রতিটি ফ্লোর কানায় কানায় ভরে যায়। মসজিদের আশেপাশের সড়কেও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে তার জানাযায় অংশ নেন শত শত মানুষ। বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন এটর্নী মঈন চৌধুরী, কাজী নয়ন, ডা. ওয়াদুদ ভ’ইয়া, ডা, ওয়াজেদ এ খান, বেদারুল ইসলাম বাবলা, এমাদ চৌধুরী, আব্দুল লতিফ স¤্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মিল্টন ভ’ইয়া, গিয়াসউদ্দিন, আজহারুল হক মিলন, পারভেজ সাজ্জাদ, এম এ বাতিন, আবু তাহের, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, সিদ্দিকুর রহমান, হাজী এনাম, সামাদ আজাদ, দরুদ রনেল, , মহিউদ্দিন দেওয়ান, জসীম ভ’ইয়া প্রমুখ। নিউইয়র্কের আশপাশের রাজ্য থেকেও এসেছিলেন প্রবাসীরা। স্বল্প সময়ের নোটিশে অনুষ্ঠিত জানাযায় মানুষের ঢলকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা এম এ সালাম বলেন, ‘খোকা ছিলেন সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় একজন নেতা, এটা তারই প্রমাণ।’

স্থানীয় সময় রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিট) নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের বিশেষায়িত হাসপাতাল মেমোরিয়াল ¯েøায়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ইন্তেকাল করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

তার লাশ ঢাকার উদ্দেশ্যে জেএফকে ছাড়বে ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১ টায়। ৭ নভেম্বর সকাল ৮টায় ঢাকায় পৌঁছার কথা। লাশের সাথে যাচ্ছেন খোকার স্ত্রী ও সন্তানেরা। উল্লেখ্য, তার স্ত্রীর ট্র্যাভেল ডক্যুমেন্টও একইসাথে ইস্যু করেছে নিউইয়র্ক কন্স্যুলেট।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com