শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১২ অপরাহ্ন

বাড়তি সময় না দেওয়ায় শিক্ষককে মারলেন আ. লীগ নেতার স্ত্রী

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর : পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে জেএসসি পরীক্ষায় মেয়েকে বাড়তি সময় না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

সোমবার জেএসসির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ওই শিক্ষককে চড় থাপ্পরসহ জুতা পেটা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের মাঠে জড়ো হন। পরে আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসানসহ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের মেয়ে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ১নং কক্ষে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা পড়ার পর রাধানগর হাজি শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোকলেছার রহমানসহ তিন কক্ষ পরিদর্শক নিয়ম অনুসারে পরীক্ষার্থীদের খাতা সংগ্রহ নেন। এসময় ওই পরীক্ষার্থী আরও সময় চান। কক্ষ পরিদর্শক মোকলেছার রহমান বাড়তি সময় না দেওয়ায় ওই পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের বাইরে থাকা তার মা রোজিনা আক্তার রোজিকে অভিযোগ করেন।

মেয়ের অভিযোগ শুনে রোজিনা আক্তার পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে আকস্মিক শিক্ষক মোকলেছার রহমানের শার্টের কলার ধরে চড় থাপ্পরসহ মারপিট শুরু করেন। এক পর্যায়ে জুতা খুলে ওই শিক্ষককে মারেন। অন্য শিক্ষকেরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী সহকারি শিক্ষক মোকলেছার রহমান জানান, পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা বাজার পরও ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে বাড়তি সময় দাবি করে। আমি সময় দিতে রাজি না হওয়ায় তার মা এসে আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। পরে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের উপস্থিতি বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করা হয়।

কেন্দ্র সচিব আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি ঘটনাস্থলে এসে সবার সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান জানান, বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিক আমি ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে যাই। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ওই পরীক্ষার্থীর মা তার ভুল বুঝতে পেরে শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চান। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com