শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩২ অপরাহ্ন

আবরার হত্যা, বুয়েটের ২৪ ছাত্র অভিযুক্ত, চার্জশিট প্রস্তুত

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করতে যাচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে চার্জশিট দাখিলে অন্যতম চাঞ্চল্যকর মামলার রেকর্ডও এটি। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চূড়ান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার না হলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চার্জশিটে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই বুয়েটের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। আবরার হত্যার ঘটনার সঙ্গে তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। প্রাথমিকভাবে সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি আবরারকে পিটিয়েছেন। কেউ কেউ আবরার হত্যার নির্দেশদাতা। আবার কেউ কেউ আবরারকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোনের গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট প্রস্তুত করেছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। ইতোমধ্যে এই মামলায় ২১ জন গ্রেফতার হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে আছেন। এ ছাড়া আরো তিনজন পলাতক রয়েছেন। এই পলাতক তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পরপরই আবরার হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই নির্মম হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এরপর আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবরার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এই সন্দেহেই তাকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ঘটনার আগে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা পরিকল্পনা করেন আবরারকে শায়েস্তা করার। ঘটনার আগে তারা একটি মিটিংও করেন। এর আগে বুয়েটের ছাত্রলীগের এক নেতা ফেসবুক গ্রুপে আবরারকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দেন। এতে অনেকেই সায় দেন।

তারপর আবরারকে গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে এনে মারধর করা হয়। তাকে কিল-ঘুষি মেরে, স্কিপিং দড়ি দিয়ে ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটান হত্যাকারীরা। তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে পেটানো হয়। পানি পানি বলে চিৎকার করলেও তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়নি। আবরারকে পেটানোর একপর্যায়ে তিনি কয়েকবার বমি করেন। কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি কেউ। একপর্যায়ে গভীর রাতে আবরার মারা যাওয়ার পর তাকে ধরাধরি করে দোতলার সিঁড়ির ওপর ফেলে রাখেন হত্যাকারীরা।

৮ আসামির জবানবন্দি : আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত আট আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন ইফতি মোশাররফ হোসেন সকাল, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মো. মোজাহিদুর, মনিরুজ্জামান মনির, এ এস এম নাজমুস শাদাত ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা বুয়েটের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা হলেন মেহেদী হাসান, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান, মোজাহিদুর রহমান, তানভীর আহম্মেদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, জিসান, আকাশ, শামীম বিল্লাহ, শাদাত, তানিম, মোর্শেদ, মোয়াজ ও মুনতাসির আল জেমি।

চার্জশিটভুক্ত আসামি হচ্ছেন : মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান, তানভীর আহম্মেদ, মোজাহিদুর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, জিসান, আকাশ, শামীম বিল্লাহ, শাদাত, তানিম, মোর্শেদ, মোয়াজ ও মুনতাসির আল জেমি। এ ছাড়া এজাহারের বাইরে থাকা ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাহাত, এস এম মাহমুদ সেতুসহ ২৪ জন চার্জশিটভুক্ত আসামি হচ্ছেন।

এখনো অধরা এজাহারভুক্ত তিন আসামি : মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামি জিসান, মোর্শেদ ও তানিমকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন এজাহারভুক্ত। বাকিরা সন্দেহভাজন হলেও তারা হত্যাকা-ে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com