শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২২ অপরাহ্ন

কাউন্সিলর মানেই আলাদিনের প্রদীপ ?

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (পর্ব ১)

শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক 

 

খবরের আলো রিপোটঃ
রাজনীতি মহান। রাজনীতি ছাড়া একটি দেশ যেমনভাবে চলতে পারেনা তেমনি একটি দেশকে রাজনীতি ছাড়া প্রশাসনিক সু-বিন্যস্ত করাও সম্ভব হয় না কিন্তু এক শ্রেনীর মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের ভোটগ্রহনের ম্যাধমে হয় জনপ্রতিনিধি। তারপরই এদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা  বের হয়ে আসে তার আসল রুপ ।
এযেন আলাদিনের প্রদীপ পাওয়ার মতো অবস্থা। পাঁচ বছরের একটু বেশি সময়ের ব্যবধানে শূন্য থেকে এখন হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। এমনই এক কাউন্সির বিরুদ্ধে দৈনিক খবরের আলো দির্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন অপকর্মের হোতা উত্তরা এলাকার কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। উত্তরা একাধিক মার্কেট, বাড়ি, ফিলিং স্টেশন, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, ক্যাসিনো ব্যবসা, কী নেই তার রাজ্যে ।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নজরদারিতে রেখেছে সূত্রে জানা যায়, তিনটি ক্যাসিনোই তার ওয়ার্ডে অবস্থিত ছিল। এসকল ক্লাবে পরিচালিত জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারে নিয়মিত ভাগ পেতেন। উত্তরার তিনটি ক্যাসিনো কারবারের সাথে আফসার উদ্দিনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উত্তরা ৯ নং সেক্টরের ভিবা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের উপরের তলার ক্যাসিনো, হাউজ বিল্ডিং গাজীপুর ক্লাব ক্যাসিনো ও ১ নং সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে উপরে পরিচালিত ক্যাসিনোর পরিচালনাকারী প্রায় সকলেই তার নিয়ন্ত্রণে চালিয়ছেন। গোয়েন্দা সূত্রমতে, অর্ধশত ক্যাডার বাহিনীর বহর নিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। দখল-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছেন এই কাউন্সিলর। রাজউকের ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্লটে মার্কেট বানানো, দখলবাজি, ফুটপাত ও পরিবহন চাঁদাবাজিসহ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে সরকারদলীয় এ কাউন্সিলর এর বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও ২০০৮ সালে সার্থ হাশিল করার জন্য  আওয়ামী লীগে আসেন আফসার উদ্দিন খান। তার বাবা ও ভাই একসময় শান্তি কমিটির নেতা সুলতান চেয়ারম্যানের রাজনীতি করতেন। পরিবারের বড় ভাই আশ্রাফ আলী জোট সরকারের সময় উত্তরা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সময়ের ব্যবধানে ছোট ভাই আফসার এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কাউন্সিলর। ঢাকা-১৮ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের ছত্রছায়ায় থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় স্বঘোষিত ডন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, উত্তরা আজমপুরে বিডিয়ার বাজারে কাঁচাবাজার বসিয়ে প্রতি মাসে অর্ধ কোটি টাকা ভাড়া আদায় করেন আফসার উদ্দিন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাহাবুদ্দিন বাজারটি দেখভাল করেন। আজিমপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ২০ কাঠার প্লট দখল করে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির মার্কেট নির্মাণ করেছেন এ কাউন্সিলর। এটি পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা মাজেদ। আব্দুল্লাহপুরে পানি উন্নয়নের বোর্ডে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ছয়টি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। পরিচালনায় আছেন শ্যালক ও যুবলীগের কয়েকজনসহ স্থানীয় জামাই ফারুক।
সোনারগাঁও জনপথ রোডে রাজউকের প্রায় ২০ বিঘা জমি দখল করে বানানো হয়েছে ফার্নিচার বাজার। পরিচালনা করেন জজ মিয়া ও যুবলীগের সোহেল। ৯ নং সেক্টরে লেকের পাড়ে ফার্নিচার মার্কেট পরিচালনা করে স্থানীয় ছাত্রলীগ। উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের সামনে জুট কাপড়ের ব্যবসার মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করেন আফসার উদ্দিনের অনুসারী রাসেল। ওই প্লটটি বিএনপির এমপিপ্রার্থী সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিনের থেকে দখল করা। উত্তরা আব্দল্লাহপুরের পরিবহন চাঁদাবাজি, যা রাজধানীর মধ্যে তৃতীয় বড় পরিবহন চাঁদাবাজির স্পট। এটি নিয়ন্ত্রণ করেন শ্রমিক নেতা নূরু। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেন কাউন্সিলর আফসার।তিনি গত ৫ বছরে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর যেসকল সম্পত্তির মালিক বনে গেছে।  উত্তরায় ১০ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন ১৩ তলা খান টাওয়ার। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। ৯ নং সেক্টর ১০ নং রোডে রয়েছে- ৫ কাঠার ও আবদুল্লাহপুরে দুটি ৬ তলাসহ ৩টি প্লট। এসবের বাজার মূল্য ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে উত্তরায় আরো ১৫টি প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া আশুলিয়ায় রয়েছে আফসারের ৫০ বিঘা জমি। আশুলিয়া ও রপ্তানি রোডে একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। আব্দুল্লাহপুরে খন্দকার সিএনজি স্টেশনটিও ১০ কোটি টাকায় কিনেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। টঙ্গীর চেরাগ আলীতে এক বিঘা জমির উপর একটি নির্মাণাধীন মার্কেট রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট ও পরিবারের সবার সেকেন্ড হোম গড়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ক্যাসিনোসহ অবৈধ ব্যবসাবিরোধী মাঠে নেমেছে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২১ জনের মতো। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগসহ সরকার সমর্থিত সংগঠনের নেতা। আটককৃতদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র উদ্ধারসহ বিপুল অবৈধ অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। নানা অপকর্মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের মালিক বনে গেছেন তারা। এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর। গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন আরো বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান।
ক্যাসিনোসহ অবৈধ ব্যবসাবিরোধী মাঠে নেমেছে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের গ্রেপ্তার অভিযান তিনি সংবাদ সম্মেলন করে জানান তার বিরুদ্ধে যেসকল সংবাদ ম্যাধমে প্রচার করা হচ্ছে তার প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন দাবী করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান বলেন, আমার কোনো সম্পত্তি নেই ১৩ তলা খান টাওয়ার আমার ভাই আশ্রাফ আলী খান এর আমার ফ্যামিলির সম্পত্তি আছে আমার কিছু নেই ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com