শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২২ অপরাহ্ন

দাদা ভাইয়ের রয়েছে ঐশ্বরিক ক্ষমতা ?

খবরের আলো :
ষ্টাফ রিপোর্টার : প্রেমে ব্যর্থতা, অবাধ্যকে বাধ্য করা, মনের মানুষকে আয়ত্তে আনা, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, পরীক্ষায় পাস, অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করা, শত্রু দমন, বিদেশ যাত্রায় বাধা, ব্যবসায় ক্ষতি,বন্ধ্যত্ব- এরকম অনেক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন তারা। সবই তারা করতে পারেন ঐশ্বরিক ক্ষমতায়। তাদের দাবি- জাদুটোনায় দীক্ষিত তারা।কালি মা দেবী ও জিন-পরী তাদের হাতের মুঠোয়। বিভিন্ন নামে পরিচিত তারা। কেউ দাদা ভাই কেউ সাধক বাবা, কেউ মুশকিলে আহসান, কেউ কেবলা হুজুর। এরকম নানা নামে পরিচিত তারা। মানুষ ঠকানোই তাদের কাজ। নানা রকমের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালান এই প্রতারকরা। তাদের কাছে ছুটে যান সমস্যাগ্রস্ত মানুষ। এসব মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। রাতারাতি প্রতারকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সমস্যাগ্রস্ত মানুষগুলো আরও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনই একজন সাধক বাবা মিরপুর  দারুস সালাম থানা এলাকার শহীদ বৃদ্ধিজিবী রোড ১০ নং কমিউনিটি সেন্টার এর পিছনেই রিকশার গ্যারেজ এর ভিতরে দির্ঘদিন যাবত মানুষের সাথে কালি মা দেবীর সাধক এর সাইন বোর্ড ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে দাদা ভাই নামক প্রতারক। তার আস্তানা সকাল থেকেই দুপুর পযর্ন্ত শতশত লোকজন এর আনাগোনা রয়েছে তার ক্ষমতা প্রচার করার জন্য কমিশন ভিত্তিক শতাধিক দালাল রয়েছে। তিনি যেকোনো সমস্যা এর জন্য দিয়ে থাকে পানি পড়া,ফুল পড়া,সরিষা পড়া, তাবিজসহ নানা তদবির করেন। অনেকের সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিনিময়ে একাধিকবার বিভিন্ন ঝামেলা দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।  একটি সমস্যার অজুহাত নিয়ে দাদা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রতিবেদক। পূর্ব থেকেই বানানো গল্পটা তাকে জানাই বিয়ে হচ্ছে না আমার বারবার বিয়ের ভেঙ্গে যাচ্ছে। বুঝার চেষ্টা করেন দাদা ভাই প্রতিবেদকের প্রকৃত উদ্দেশ্য। বারবার নাম-পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। কারণ ভন্ডামী এই রূপকে ঘিরে আছে রহস্য। তাই সবসময়ই অচেনা কারও সঙ্গে কথা বলতে ভয় কাজ করে তার। এক পর্যায়ে বিশ্বাস করেন সমস্যাগ্রস্ত হয়েই তার দ্বারস্থ হয়েছি। জানতে চান আমার নাম, মা-বাবার নাম, বয়স, বলার পরেই জানান,তিনি এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে দিবেন যেতে হবে ৩ থেকে ৪ বার। খরচ
দিতে হবে প্রথমত ২০০০ টাকা ।  দাদার নিজের কোন ক্ষমতা নেই। সবই করে মা দেবী। এই টাকা তিনি নিজের কাজে ব্যয় করেন না। প্রতারক দাদা বলেন, আমি এসব টাকা মা দেবীর জন্যই খরচ করি।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বছর ধরেই তাবিজ-কবজ, তদবিরের নামে এই প্রতারণা চালাচ্ছেন তিনি। আর এসকল টিকিয়ে রাখতে তার আস্তানায় রেখেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেই তাদের বিভিন্ন প্রান নাসের  হুমকি প্রদান করে থাকেন সন্ত্রাসী বাহিনী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক দাদা এসকল প্রতারনা করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা আর এসকল টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে রাখতে উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়েছেন দাদা ফার্মা নামক টেড্রলাইসেন্স।তাহার কোনো দাদা ফার্মা নামক প্রতিষ্ঠান নেই টাকার উৎস দেখানোর জন্য এই লাইসেন্স। এমনই এক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম (ছদ্ধ নাম) তিনি জানান তার স্বামী ২র্য় বিয়ে করেছেন তার স্বামী কে ওই ২র্য় স্ত্রীর কাছে আর যাবেন না এমন প্রলোভনে তিনি একাধিকবার প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা দিয়েছেন এখন তার কোনো কাজ হয়নি কিন্তু টাকা চাইতে গেলে যানাযানি হবে তাই কিছু না বলে সহযোগীতা চেয়ে দিগন্ত পিপর্লস ফাউন্ডেশন নামক আইন সহায়তা কেন্দ্রে সহায়তা চেয়েছেন ভুক্তভোগী নারী এবিষয়ে, উক্ত সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট মাকসুদ আলম শাহীন বলেন, ভুক্তভোগীর সংসারের কথা চিন্তা করে নাম গোপনীয়তা রক্ষা করে উক্ত প্রতারক দাদা ভাই এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন,বিভিন্ন সময় আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভন্ড ফকির নামক প্রতারকদের আটক করে কোর্টে প্রেরন করি। তারা জামিনে বের হয়ে আবার প্রতারণা শুরু করে। তবে অভিযোগ পেলেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।ভন্ড দাদা সাধক সেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই নানা রকম অপরাধ মূলক প্রতারনা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। ঢাকার একটি শ্রেণীর কাছে এক নামেই পরিচিত দাদা ভাই। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে………

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com