মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

‘মাইকে ফুঁয়ের শব্দ যে পর্যন্ত, তেল-পানি কাজ করবে সে পর্যন্ত’

রবিবার, ১০ নভেম্বর : সারাদেশের মানুষ যখন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আতঙ্কে। ঠিক তখনি বৃষ্টি উপেক্ষা করে তেল-পানির বোতল নিয়ে খোলা মাঠে অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার নারী-পুরুষ।

উৎকন্ঠা নিয়ে বসে আছেন কখন কবিরাজ মঞ্চে উঠবেন। আর পাওয়া যাবে আকাঙ্ক্ষিত পানি পড়া আর তেল পড়া। হাজারো মানুষের জড়ো হওয়া এমন চিত্র কোনো সিনেমার নয়। ক্ষুব্দ মানুষের আন্দোলনেরও নয়। স্রেফ কবিরাজের ফুঁ এর জন্য।

গতকাল শনিবার এমন চিত্র দেখা গেছে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায়। সুখিয়া ইউনিয়নের চর পলাশ গ্রামের মাঠে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের একটি মাঠে ভোর থেকেই জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। সকাল ৮টার আগেই প্রায় ৫০ সহস্রাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে ওই বিশাল মাঠ।

কাঠুরিয়া কবিরাজের ঝাড়-ফুঁকের পানি খেলে এবং তেল মালিশ করলে সব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং মনোবাসনা পূরণ হবে এমন অন্ধ বিশ্বাস থেকে সেখানে উপস্থিত হন হাজার হাজার নারী-পুরুষ।

ভক্তদের অনেক অপেক্ষার পর বেলা ১১টার দিকে কাঠুরিয়া কবিরাজের আগমনের খবর মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে এলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু।

মঞ্চে উঠে কবিরাজ উপস্থিত লোকজনকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিছুক্ষণ পর সমাগত নারী-পুরুষদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি মাইকে ফুঁ দেব। মাইকে আমার ফুঁয়ের শব্দ যে পর্যন্ত যাবে সে পর্যন্ত তেল-পানির বোতল কাজ করবে। কেউ ধৈর্য হারাবেন না।

এমন ঘোষণার পর চারপাশে অবস্থান করা হাজার হাজার নারী-পুরুষ তেল-পানির বোতল উঁচিয়ে ধরলেন। বক্তব্য শেষ হতে না হতেই কবিরাজ মাইকে ফুঁ দেন। রোগবালাই দূর এবং মনোবাসনা পূরণের আনন্দ নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরলেন সবাই।

জানা গেছে, সবুজ মিয়া নামের ওই কবিরাজের বাড়ি ভালুকা উপজেলার রাজ্য ইউপির পায়লাবের গ্রামে। তিনি বনে কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। সপ্তাহে চারদিন কাঠ কাটেন এবং তিনদিন কবিরাজি করেন।

জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেণু বলেন, কিছু ভক্তের অনুরোধে এখানে কাঠুরিয়া কবিরাজ উপস্থিত হয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এখানে এসেছি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে দ্রুততম সময়ে এ আয়োজন শেষ করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি।

এ ব্যাপারে দেশের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সাবেক ইমাম কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের গবেষক মুফতি মাওলানা এ কে এম সাইফুল্লাহ বলেন, এভাবে মাইকে ফুঁ দেওয়া প্রতারণা ও শিরকের শামিল।পূর্বপশ্চিমবিডি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com