মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৫১ অপরাহ্ন

শ্রমিক থেকে চেয়ারম্যান হয়েই কোটিপতি!

সোমবার, ০২ ডিসেম্বর : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। একসময় অন্যের জমিতে হালচাষ ও ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে তৎকালীন ১৯৯৬ সালে হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার)। কিন্তু জনগণের বিশ্বাস রাখতে না পারায় ২০০৩ সালে সদস্য ও ২০১১ সালে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এরপর ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরপর থেকে বদলে যায় তার জীবনের চাকা। দল আর ক্ষমতাকে পুঁজি করে স্ত্রী নুরজাহান বেগম, ছেলে আমিরুল ইসলাম জুয়েল ও বড় ভাই গোলাম মাওলার সহযোগিতায় দুর্নীতি আর অনিয়মের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন তিনি। অল্প সময়ে সম্পদের পাহাড় করে গিয়েছেন কোটিপতি বনে। অভিযোগ রয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সকল অন্যায় দামাচাপা দেয়ায় পাকাপোক্ত এই চেয়ারম্যান।

সম্প্রতি কুশাখালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যানের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি রুখতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এইচএমএ খালেক মাস্টার ও মোশারেফ হোসেনসহ ৮ জনের স্বাক্ষরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রশাসনের ১৩টি দপ্তরে এ অভিযোগ করেন। গত ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকারের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য চিঠি দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পরে নুরুল আমিন তার স্ত্রী-ছেলে ও নিজের নামে প্রায় দেড় হাজার শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ও শান্তিরহাট বাজারে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে দোকান ভাড়া নিজেই ভোগ করছেন। বিনামূল্যের প্রত্যেকটি নলকূপ স্থাপনে ২০-২৫ হাজার টাকা করে জনসাধারণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে ছিলাদী ও কাঠালী গ্রামের মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ও বিধবাসহ সরকারি সব ভাতার কার্ড দিতে প্রত্যেকজন থেকে ৩-৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। এতে সহায়তা করে আসছেন তার স্ত্রী। আবার ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে গ্রাহকের টাকা নিজেই উত্তোলন করে হাতিয়ে নিয়েছেন। গরীব-অসহায়দের না দিয়ে নিজের ঘরে ব্যবহার করছেন সরকারি বরাদ্ধের এক হাজার ওয়াটের সোলার প্যানেল।

বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিনামূল্যে সরকারি ঘর পাইয়ে দিতে তার ছেলে জুয়েলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি সংযোগের জন্য ৬ হাজার ও ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন ১০ লাখ টাকার সম্পত্তির হিসাব দেখালেও বর্তমানে চেয়ারম্যানের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়রা রাইজিংবিডিকে জানান, নুরুল আমিন একসময় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে হালচাষও করেছেন। কয়েকবার ইউপি নির্বাচনে সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েও জয়ী হতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে টাকার বিনিময়ে প্রার্থীতা নিয়ে জোর করে বিনাভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের মেম্বার বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যায় ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পূর্বে ক্রয়কৃত ৩০ শতাংশ জমি তিনি পরে রেজিস্ট্রি করেছেন। তবে স্ত্রী-ছেলে ও ইউপি সদস্যরা সেবা গ্রহীতাদের থেকে টাকা নিয়ে থাকলে সেসবের দায়ভার তিনি নেবেন না।’

তবে অভিযোগের সত্যতা মিললে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের লক্ষ্মীপুরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারি চট্টগ্রাম বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’ রাইজিংবিডি ডট কম

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com