জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীর কৃষকদের কাছ থেকে প্রথম বারের মত সরাসরি ধান কিনছে সরকার

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুর রহমান মাসুদু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :চলতি আমন মৌসুমে পটুয়াখালী জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার। ধান ক্রয়রের টাকা পরিশোধ করা হবে সংশ্লিস্ট কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে। ধানের ন্যায্য মূল্যসহ মধ্যসত্ত¡ভোগী, ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে ধানের বাজার রক্ষায় নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।
কৃষকরা জানায়, প্রতি বছর কৃষকের গোলায় ধান উঠতে না উঠতেই মধ্যস্বত্তভোগীদের তৎপরতায় ধানের বাজার দর থাকে নি¤œমুখী। মিটার পদ্বতির ব্যবহার না থাকায় ফড়িয়া-দালালরা কৃষককে জিম্মি করে প্রতি মনে ৪০কেজির পরিবর্তে ৪৭কেজি হিসাবে ৭ কেজি ধান বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রত্যেকটি হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এসব ফড়িয়া-দালালরা। ফলে বাইরের কোন ক্রেতা আসতে পারছে না ধানের বাজারে। বাধ্য করা হচ্ছে তাদের কাছেই ধান বিক্রি করতে। শুধু তাই নয় ধান বিক্রি করে নগদ টাকা পর্যন্ত পায়না কৃষক। বিক্রির ৭/৮ দিন থেকে এক মাস পরেও টাকা নিতে হয়। আবার কৃষকের কেনা ধান বিক্রি করেই ওই টাকা শোধ দেয়া হচ্ছে। মাঝখান থেকে বিনা পুজিঁতেই হাতিয়ে নিত কোটি কোটি টাকা মুনাফা।
পটুয়াখালী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৫’শ মেট্রিক টন। চলতি আমন মৌসুমে জেলার নিবন্ধিত ২১,৯৩০ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ১৫,০৭৫ টন ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৬ টাকা কেজি দরে এসব ধান ক্রয় করা হচ্ছে। বৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা এসব ধানের মূল্য পরিশোধ করা হবে সংশ্লিস্ট কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে। এজন্য ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের এমন মহতী উদ্যোকে স্বাগত জানিয়ে কৃষক মৈত্রীর সভাপতি কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, সরকারীভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবী ছিল দীর্ঘদিনের। দীর্ঘদিন ধরে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিল কৃষক। মধ্যস্বত্ত¡ভোগী ফড়িয়া বা দালালের চাপে পড়ে দিনদিন সর্বসান্ত হচ্ছিল কৃষক। অনেকেই আগ্রহী হারিয়ে ফেলেছিল আমন চাষের উপড়। কিন্তু প্রক্রিয়াটি চালু হওয়ায় উপকৃত হবে কৃষক। সরকারিভাবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার এমন উদ্যোগে তারা আরো বেশি আগ্রহী হবে কৃষি কাজে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবারই প্রথম জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করছে সরকার। এতে ধানের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে কৃষক। জেলার সকল কৃষকদের জানাতে হবে যে, খাদ্য গুদামের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সরকার ধান ক্রয় করছে। কৃষকরা যেন সরকারী এ সুবিধা গ্রহন করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, স্বচ্ছতার সাথে শতভাগ কৃষকদের প্রকৃত তালিকা তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যাংক একাউন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। ধানের বিক্রয়লব্ধ অর্থ কৃষকদের একাউন্টে পরিশোধ করা হবে। ফলে মধ্যস্বত্ত¡ভোগী ফড়িয়া বা দালালের হাতে টাকা যাওয়ার ভয় থাকবেনা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com