বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

পাবলিক টয়লেটেএ পরিণত ভোলার দৌলতখানের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ

খবরের আলো :

 

 

মোঃ ওমর ফারুক,ভোলা থেকে : ভোলায় পাবলিক টয়লেটে পরিণত হয়েছে দৌলতখান মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ। দৌলতখান উপজেলার পৌরশহরের উত্তর মাথায় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ। নির্মাণের পর থেকেই অযতেœ অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাস,টেম্পু, অটোরিক্সা সহ পথযাত্রী এই স্মৃতিস্তম্ভের উপরে পাবলিক টয়লেটের কাজ সারে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি বাস স্ট্যান্ড এবং অটো স্ট্যান্ড থাকায় যাত্রীরা আশপাশে কোন টয়লেট না পেয়ে স্মৃতিস্তম্ভের উপরে প্রস্রাব এমন কি প্রকৃতির কাজও করছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রস্রাবে স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় ভেসে গেছে ঐ ধরনের আবর্জনায়। আর এর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো শহীদ মিনার সহ উত্তর বাজার এলাকায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের পাশে এক লোক প্রস্রাব করছেন। এখানে প্রস্রাব করার কারণ জানতে চাইলে ওই যুবক বলেন, আশেপাশে কোনো টয়লেট নেই। কোথায় প্রস্রাব করব বলুন।
তবে স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানিয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচর্যা না করার কারনে নিয়মিত এই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে লোকজন বাসযাত্রীরা প্রকৃতির কাজ করে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিস্তম্ভটির চারদিকে ময়লা-আবর্জনায় জড়ো হয়ে রয়েছে, এটির পাশে রয়েছে উপজেলা হাসপাতাল ও দৌলতখান সদর থানা, কিন্তু দেখার কেউ নেই। তবে আজ অবদি এমন নোংরা পরিবেশের খবর দৌলতখানের কোন মুক্তিযুদ্ধার চোখে পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের এমন করুন দৃশ্য দেখে দৌলতখানের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অসম্মান করার সামিল বলে স্থানিয়রা মনে করছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
ভোলার দৌলতখানের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট প্রবীন সাংবাদিক আবু তাহের জানান,স্বাধীনতার যুদ্ধে ভোলা জেলার মধ্যে দৌলতখান হচ্ছে সবচাইতে গুরুত্ব পূর্ণ স্থান। ১৯৭১ সালের ১২ই নভেম্বর সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা দৌলতখানের আবুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন গরুচৌক্কা এলাকায় পাক হানাদার বাহীনিকে পরাস্ত করে ১২ জন হানাদার বাহীনিকে আত্বসমর্পনে বাধ্য করে ছিলেন এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাবেক থানা সার্কেল অফিসার আব্দুল হামিদ ( সিওডেভ) ও তার স্ত্রী কে ধরে নিয়ে গিয়ে দৌলতখান থানায় বর্বরোচিত ভাবে হত্যা করে পাক হানাদাররা। স¦াধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দৌলতখান থানার সামনেই আজ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভটি অবহেলা, অযতেœর শিকার। যা স্বাধীনতাকামী কোন মুক্তিযোদ্ধার কাম্য নয়।
এ ব্যাপারে দৌলতখান পৌরসভার মেয়র জাকির হোসেন তালুকদার জানান, যেহেতু পৌর শহরের উত্তর মাথায় মুক্তিযুদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভটি রয়েছে, তাই রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতখান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক শশী জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। তবে মুক্তিযুদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভটি ময়লা আবর্জনা করে রেখেছে যাত্রীরা। বারবার নিষেধ করেও লোকজনকে প্রস্রাবের ব্যাপারে থামানো যাচ্ছে না। দুর্গন্ধে শহীদ চত্বরে এলে মানুষজন টিকতে পারছেনা। এ ব্যাপারে দ্রæত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com