জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

ভোলার চরফ্যাসনে ইটভাটায় পুড়ছে ম্যান‌গ্রো‌বের কাঠ

খবরের আলো :

 

 

মোঃ ওমর ফারুক,  ভোলা  থে‌কে : ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় রে‌য়ে‌ছে প্রায় ৩৫টি ইটভাটা। এর মধ্যে ৩০টিই চলছে অবৈধভাবে। ম্যানগ্রোভ বনের কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বছ‌রের শুরু‌তেই অবৈধ ইটভাটা স্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযান চালালেও এসব ইটভাটা মালিককে ঠেকাতে পারেনি। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিফাত ইটভাটা বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর ফের চালু হয়ে যায় ইটভাটাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আবাদি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চরফ্যাসন উপজেলায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাসন উপজেলায় ৩৫টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র পাঁচটির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ৩০টি ইটভাটার কোনো অনুমোদন নেই। ইটভাটা মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইনবহির্ভূত হওয়ায় অনুমোদন নিতে পারেননি। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। অনুমোদিত পাঁচটি ইটভাটা ছাড়া বাকিগুলোর কোনোটিই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশির ভাগই ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে স্থাপিত হয়েছে। লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় ওইসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর ই ম‌ধ্যে  অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।

ইটভাটা মালিকরা জানান, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম। সাধারণত এক চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট পোড়াতে কাঠ লাগে দুই হাজার মণ। এই হিসাব অনুযায়ী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসাব এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটার মালিক জানান, বেশির ভাগ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। আবেদন করে এক বছরে সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া প্রতি বছর এলআর ফান্ডে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করে থাকেন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, এ বছর আমার জানা মতে ইটভাটায় ম্যানগ্রোভ বনের কাঠ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তাহলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক জানান, চরফ্যাসন উপজেলার ড্রাম চিমনি ইটভাটাগুলোকে ইট না পোড়ানোর নোটিশ করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই অভিযান চালাব।
চরফ্যাসনের ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com