জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লকডাউনে সুস্থ থাকার দুর্দান্ত ৬ উপায় করোনা চিকিৎসায় ৫ হাজার শয্যার হাসপাতাল বানাবে বসুন্ধরা ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে তালিকা লক ডাউন বাংলাদেশে অসহায় বঞ্চিত হিজরা জনগোষ্ঠীর সাহায্যের আবেদন আমতলীতে করোনায় কর্মহীন মানুষের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা প্রদান উল্লাপাড়ায় ওয়ার্ড মেম্বর বাবলু রায়ের বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে অভিযোগ,তার হাত থেকে জনসাধারণ বাঁচতে চাই বদলগাছীতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বৃত্ত অঙ্কন করে কলেজ ছাত্রলীগের অভিনব প্রচার-প্রচারণা পটুয়াখালীতে সর্দি জ্বর ও এজমায় মৃত্যু দুই ব্যক্তির বাড়ি লক ডাউন করোনা ভাইরাসেরর সতর্কতায়:পটুয়াখালীতে তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবারে চাল,ডাল,আলু বিতরন প্রতিদিনের ন্যায় আজও সারাদিন বেনাপোলে ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযান

কলাপাড়ায় অসময়ে বৃষ্টিতে তরমুজ চাষীরা বিপাকে

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুর রহমান মাসুদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলা প্রতিকূল আবহাওয়ায় আর কুয়াশা তরমুজ আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। একসাথে গত শুক্রবার (৩-৫ জানুয়ারী) থেকে রোববার একটানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও ক্ষেতের তরমুজ গাছের পাতায় পচন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঘন কুয়াশা আর বৃষ্টির কবল থেকে ক্ষেতের তরমুজ গাছের পচন রোধে ছত্রাকনাশক কীটনাশক ছিটিয়ে আবাদ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ ক্ষেতে সবুজ লতায় মোড়ানো তরমুজ গাছের চারা দেখে চাষীদের বুকে স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল। কিন্তু পৌষের অসময়ে বৃষ্টিতে উপজেলার তরমুজ চাষীদের সেই স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেলো। কোন ক্ষেতে পানি জমে চারা পঁচে যাচ্ছে। আবার রোদ ওঠায় কোন ক্ষেতের পাতা শুকিয়ে গাছ নিস্তেতজ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তরমুজ চাষীরা। কিভাবে ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষি মাঠ এখন তরমুজ সবুজ গাছে ভরে গেছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বর্তমান তরমুজ বাজার দর ভালো থাকায় ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সবার বুকে সোনালি স্বপ্নের জাল বুনছে। চাষিরা মনের আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু শুক্রবার ও রোববার দুই দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির হওয়ায় এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আকাশ থেকে ঘন কুয়াশা ঝরতে থাকায় তরমুজ আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ উপজেলার কৃষকরা। কারণ ঘন কুয়াশা তরমুজ গাছের সবুজ পাতা ও বৃষ্টির পানি ডগায় পচন ধরে।
লাভজনক ফসল হওয়ায় অধিক লাভের আশায় আগাম তরমুজ আবাদ করেছেন অনেক চাষী। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফার বৃষ্টিতে চাষীদের সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। উঠতি তরমুজ চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতকরা ৮০ শতাংশ তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৫০০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। দুইদিনের বৃষ্টিতে ৩৫০ হেক্টর জমির উঠতি চারার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, অসময়ের বৃষ্টির এ অশনি সংকেতের কারণে মৌসুমের শুরুতেই অনেকে তরমুজ চাষাবাদে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ বৃষ্টিতে শুধু তরমুজের নয়, রবিশস্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি বিভাগের তথ্য মতে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষি ক্ষেতজুড়ে উঠতি তরমুজ চারাগুলো পানিতে ডুবে আছে। ক্ষেত থেকে পানি সরাতে কেউ নালা কাটছে, কেউ সেচ করছে। কেউবা পাওয়ার পাম্প লাগিয়ে পানি নিষ্কাশনের প্রাণপন চেষ্টা করছে। এরমধ্যে রোববার সকাল থেকে রোদ ওঠায় সেই কষ্ট অনেকটাই ¤øান হয়ে যায়। কারণ, বৃষ্টির পর রোদে গাছের পাতাগুলো শুকিয়ে নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষী পরিবার।
গঙ্গামতি তরমুজ চাষী আবুল বশার শিকদার জানান, ক্ষেতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চলছে আমার বালি জমিতে তরমুজ চারা গুলো মোটামুটি ভাল আছে কিন্ত মাটির জায়গা তরমুজ চারা রোদ ওঠার সাথে সাথে গাছ হেলে পড়েছে। এরচেয়ে আকাশ মেঘলা থাকলে কিছু চারা টিকানো যেতে মনে হয়।’
দ্বিগরবালিয়াতলী গ্রামের আলমগির দফাদার, আলম মৃধা, ‘আমরা যারা কৃষক আছি কেউ ঢাকা, কেউ এলাকা থেকে দাদন নিছি। অনেকে ঋণ করছে। কিন্তু বৃষ্টিতে আমাগো সব ভাসিয়ে নিছে। মোটামুটি চারা ভালোই হইছিল। কিন্তু বৃষ্টি চারার অবস্থা খুব খারাপ। চারা না বাঁচার সম্ভাবনা বেশি। যাদের চালান নেই পরের থেকে এনে ক্ষেত করছে, দ্বিতীয়বার দেওয়ার ক্ষমতা নাই। বৃষ্টিতে কৃষক শেষ।
স্থানীয় কয়েকজন তরমুজ চাষীরা জানায়, ‘দুঃখ কষ্টে অনেক চাষী ক্ষেতের ধারে আয় না। পৌষ মাসে বৃষ্টি হবে কেউ ভাবে নাই। কৃষক এইবার মাঠে মাইর খাইছে।’ এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর বাজারদরও মন্দা থাকায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে অনেকে। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। লাভতো দূরের কথা, ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সামনে আর বৃষ্টি না হলে তরমুজ ক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণ কমবে বলে আশা করছি। বর্তমানে যেসব তরমুজ চারা ভাল আছে তা আর মারা যাবেনা। কিন্তু যেগুলো পচন ধরেছে তা মারা যাবে। আমরা তরমুজ চাষিদের তরমুজ গাছের পচন রোধে নইন নামক ছত্রাকনাশক কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com