বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০, ১১:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

অসহায় হতদরিদ্র ঝুমার পাশে কেউ নেই

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অগ্নিদগ্ধ ঝুমা

খবরের আলো :

শ্রীপুর প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ঝুমা(৬)। নিজেদের কোন জমি নেই, ঠাঁই মিলেছে সরকারী জমির উপর কুড়ে ঘরে। ৩ছেলে ও ২ মেয়ে ঝুমাকে রেখে মা মারা গেছে ৩বছর আগে। এর মধ্যে এক ছেলে আবার প্রতিবন্ধি। বাবাও একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। মায়ের শূন্যতায় পরিবারের  এই মেয়ে শিশুর কাধে পড়েছিল সংসারের ৬ সদস্যের রান্নার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গুরুতর আহত হয় ঝুমা ১৫ দিন আগে। কিন্তু চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে উঠেনি আজো এই শিশুটির। দিনদিন ক্ষতস্থানগুলো দগ্ধ ঘাঁয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে, ধরেছে পঁচনও। শিশুটির আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীদের মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলেও সমাজের যেন কারো দায়িত্ব নেই।গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলি গ্রামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আব্দুল আউয়ালের মেয়ে ঝুমা।ঝুমার স্বজনদের ভাষ্য, মায়ের শূণ্যতায় এই শিশুকেই রান্না করতে হতো। এতে মাঝে মধ্যে তার সাহায্যকারী হিসেবে থাকতো তার বাবা। গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সাথে রান্না করার সময় অসাবধানতাবশত শরীরে আগুন ধরে যায়। এতে ডান পা কোমর থেকে ঝলসে যায়। স্বজনরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন। তাবে অর্থের সংস্থান না হওয়ায় তারা ঢাকায় না গিয়ে বাড়ী ফিরে আসেন।ঝুমার বাবা আব্দুল আউয়ালের ভাষ্য, চিকিৎসকরা তার মেয়েকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তাদের কাছে ঢাকা যাওয়া বা চিকিৎসার আনুসাঙ্গিক ব্যায় নির্বাহের মত কোন অর্থ তাদের কাছে ছিল না, তাই ঝুমাকে নিয়ে বাড়ী ফিরে আসি। এখন প্রতিনিয়ত অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। অর্থের যোগানের ব্যবস্থা করতে না পারায় বাড়ীতে রেখেও চিকিৎসা দিতে পারছি না। চোখের সামনেই আমার মেয়ের কষ্ট ও যন্ত্রনা দেখতে হচ্ছে।শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক খান জানান, এই শিশুটি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা চিকিৎসা না করে শিশুটিতে বাড়ীতে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন শিশুটি চিকিৎসা না পাওয়ায় তার যন্ত্রনা ও ঘাঁ থেকে পঁচনের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। জরুরী ভিক্তিতে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পা হারাতে পারে শিশুটি।তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার জানান, অর্থের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারা দুঃখ জনক বিষয়। কেউ তাকে এখনও বিষয়টি অবহিত করেনি। তবে তিনি জরুরী ভিক্তিতে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

বার্তা প্রেরক

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com