জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

পুলিশ হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছবি: পূর্বপশ্চিম

রবিবার, ১৯ জানুয়ারী : রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) এক কর্মকর্তা মারা গেছেন। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৪৫)। তিনি এফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু থানার হাজতখানায় গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর পরিবারের দাবি, আবু বক্কর সিদ্দিককে পিটিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সাতরাস্তা এলাকার একটি বাসা থেকে এক নারী ও তার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে থানায় ফোন করেছিল। এরপর থানা থেকে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।’

হাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন, ‘এটি একটি আত্মহত্যা। কারণ আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সেখানে পুরো ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সন্ধ্যার পর বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোকসানা আক্তার নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। রোববার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) ইফতেখার ইসলাম অচেতন অবস্থায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুকে (৪৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় কালো দাগ রয়েছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান ফেরদৌসী। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবুকে শনিবার একটি মামলায় তেজগাঁও থানা পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময় তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।’

ফেরদৌসী জানান, সে সবুজবাগ মাদারটেক আদর্শপাড়া এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে থাকতো। মায়া নামে এক নারীর সাথে সম্পর্ক ছিল বাবুর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর থেকে উভয়ই আলাদা থাকতো। কিন্তু বাবু কোথায় থাকতো তা জানত না ফেরদৌসী। এফডিসির একজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আজ তিনি মর্গে ছুটে আসেন।

ফেরদৌসী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় গত রাতে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। থানা পুলিশ তাকে ধরে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমার স্বামী কোনো সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীও ছিল না। পুলিশ তাকে ধরার পর আমাদের কিছু জানায়নি।’

বাবুর ভাই নুর মোহাম্মদ বাচ্চু জানায়, তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামে।

মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে এফডিসিতে কর্মরত সহকর্মীরা ছুটে আসেন হাসপাতালে। বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাঈদ বলেন, ‘শনিবার বিকালে আমরা একসঙ্গে চা খেয়েছি। পুলিশ বলছে বাবু থানায় আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু বাবু আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। আর থানার ভেতরে পুলিশ পাহারায় কীভাবে একজন মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে! ওর (নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক) শরীরে-মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই এটি আত্মহত্যা হতেই পারে না। আবু বক্কর সিদ্দিককে পিটিয়েই হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা তার মৃত্যুর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (এফডিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, ‘হাজতখানায় সব সময় একজন পুলিশ কনস্টেবল হলেও পাহারায় থাকেন। তাহলে কীভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা হোক। সে এফডিসির একজন কর্মকর্তা ছিল। পুলিশও সরকারি কর্মচারী, আমরাও সরকারি কর্মচারী। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন এই মৃত্যুর রহস্য খুঁজে বের করা হোক।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে বাবুকে থানা পুলিশ অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা বলতে পারছি না। তার সঙ্গে কোনো স্বজনও পাওয়া যায়নি। মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের গলায় কালো দাগ ও শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।’

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, নিহতের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। তিনি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই সময় হাজতে অন্য আসামি থাকলেও তারা কেউ টের পায়নি বলে জানান তিনি।

হাজতের সামনে সেন্ট্রির দায়িত্বে কেউ ছিল কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘সেন্ট্রিরা সাধারণত থানার গেটে থাকে। হাজতের সামনে কেউ ডিউটি করে না।’ সূত্র:পূর্বপশ্চিমবিডি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com