জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁও শিশু একাডেমি একটি অভিভাবকহীন প্রতিষ্ঠান

খবরের আলো :

 

 

এম.এ আজিজ, ঠাকুরগাঁও (রুহিয়া) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু একাডেমি দীর্ঘদিন থেকেই অভিভাবকহীন পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। শিশু একাডেমির কোন উপজেলা অফিস নেই। জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিযোগিতায় কেন্দ্রীয় অফিস থেকে ইউএনও সাহেবকে জানানো হয়। ইউএনও সাহেব প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অীফিসারের কার্যএরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহ।

তারা কোন কিন্ডারগার্টেনকেও চিঠিপত্র দেয়না। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রতিযেগিতার আয়োজনে শরম বোধ করন। এই হীনমন্যতার কারণে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিযোগী বি ত হয়। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় শিশু মৌসুমি দুটি প্রতিযোগিতা শিশু একাডেমির নিয়মিত আয়াজন।

সরকারের উদ্দেশ্য দেশের প্রতিভাবান শিশুদের খুজে বের করা । উদ্দেশ্য যাই-ই হোক তা যে ব্যাহত হচ্ছে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এই সব প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম হবে কেবল তারাই আসতে পারবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযেগিতায়। এদের যাতায়ত কিংবা খাবার বাবদ কোন অর্থ বরাদ্দ থাকেনা। আবার শিশুরা একাই আসতে পারেনা। তাদের সাথে অভিভাবক আসতে হয়।

প্রতিযোগিদের আসার কোন বাধ্যবাধকতা নাই।বিষয়টি একেবারেই ঐচ্ছিক । যে উপজেলায় ইউএনও সাহেবের মেয়ে বা ছেলে কোন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় সেই উপজেলা থেকে ইউএনও সাহেবের গাড়ীতে করে ৩/৪ জন শিশু আসে। বাঁকীদের খোঁজ কেউ রাখেনা। জেলা পর্যায়ে অধিকাংশ বিষয়ে ২/১ টি উপজেলা উপস্থিত  থাকে। এবারের জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যে সব প্রতিযোগি পুরস্কার পেয়েছে তারা এবং তাদের কয়েকজনের অভিভাবক উপস্থিত  ছিলেন।
সীমিত পরিসরে সারা বছর দোওয়া , আলোচনা , ছবি আকা ইত্যাদি চলে। জাতীয় দিবসসমুহে সাহিত্য , সঙ্গীত সহ আয়োজন করা হয় ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। এ সব আয়োজনে নির্ধারিত কয়েকজন বিচারক থাকেন। যে কোন আয়োজনে আগে কোন বিষয় জানানো হয়না। নিয়ম রক্ষার জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পত্র বিতরণের তালিকা করা থাকে। আবার প্রতিযোগিতার রেজাল্ট করার সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তাদের রেজাল্টও করা হয়। পুরস্কার নেওয়ার সময় তারা উপস্থিত  থাকেনা। গত ৬/৭ বছরের বিভিন্ন প্রতিযোিগিতার ফলাফল পরীক্ষা করলে দেখা যাবে কয়েকজন শিশু আছে তারাই নিয়মিত পুরস্কার পেয়ে থাকে। কোন কর্তৃপক্ষ রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় নির্ধারণ করেনা। আবার জেলা প্রশাসক অফিসের সভার রেজুলেশন পেতে পেতে প্রতিযোগিতা পার হওয়ার উপক্রম হয়। সেসব রেজুলেশন তো স্কুল পর্যায়ে যায়না।

শিশু কর্মকর্তাই মুলত বিষয় নির্ধারণ করে থাকেন। ফলে তার পছন্দের অভিভাবকদের সন্তানরাই পুরস্কার পায়। বিচারক যেমন নির্ধারিত, ফলাফল তেমনি নির্ধারিত। শিশু কর্মকর্তার মেয়ে স্কুলে থাকা পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১ম  স্থান  নির্ধারিত ছিল। বাঁকীরা ২য় বা ৩য় স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করতো। মেয়ে স্কুলের গন্ডি পার হয়েছে। এখন তার ছেলে ১ম স্থান  অর্জন করে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ২টি ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা ও আয়োজন করা হয়েছিল। দুটোতেই তার ছেলে প্রথম হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার ১টির আহবায়ক শিশু কর্মকর্তা আর একটির আহবায়ক কাগজে কলমে সরকারি বালক উ”চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্কুলের পরীক্ষা , ৩য় শ্রেনিতে ভর্তির অছিলায় সরকারি বালক উ”চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসব কাজে আসেননা এবং তার সামান্যতম আগ্রহও নাই। এ সব কাজ যে করা দরকার তা তিনি মনে করেন বলে মনে হয়না। এসব খবর ইতোপুর্বেও একাধিকবার সংবাদপত্রে ছাপানো হয়েছে। তবে অব¯’ার বোন পরিবর্তন হয়নি।
ঠাকুরগাঁও জেলায় দীর্ঘদিন থেকে শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নাই। বর্তমানে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত হলেও তিনি মুলত: পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নন। তিনি দিব্যি জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা হিসাবেই পরিচিত। তার স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকুরী করেন। তার ছেলেময়েরা প্রাক প্রাথমিকের সুবিধা নিয়েছে। স্বামী স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়াই অন্যান্য কর্মচারীদের কিছু করার নাই। তার ¯ী¿ কে অফিস করতে হয়না। তিনি সংসার দেখেন। স্বামী তার পক্ষে অফিস করেন। দুজনে মিলে ভাগজোক করে প্রতিষ্ঠানটিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচালনা করে আসছেন।

কয়েকজন প্রতিযোগি এবং অভিভাবকের মোবাইল নং তার সংগ্রহে আছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা করলেও তা কাগজে কলমে। শিশুদের প্রকৃত প্রতিভা বিকাশে পুর্ণাঙ্গ শিশু কর্মকর্তা নিয়োগ জরুরী বলে অভিভাবকরা মনে করেন। তবে এসব আয়োজনের আর কোন খবর যতটুকু জানা যায় ,তবে বাজেটের কোন খবর কেউ জানতে পারেনা কখনো। যে কোন অফিসের কর্মসুচির বাজেটের তথ্য প্রকাশিত হলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com