জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এবার ২৭৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

খবরের আলো :

 

 

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী:এবার নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়ে ২৭৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। দুর্নীতির ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

দুদক জানিয়েছে- এই টাকা আত্মসাতে মূল ভূমিকা রাখেন প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের একান্ত সচিব (এপিএস) মীর মোশারফ হোসেন এবং তাদের সহযোগিতা পাওয়া আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গত ১ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পালকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এর আগে ২৬ নভেম্বর কৃষ্ণ কুমারকে তলব করে দুদক। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি অনুসন্ধানে গঠিত দুদকের স্পেশাল টিমের দলনেতা ও সংস্থার উপ-পরিচালক সামছুল আলম তাকে তলব করে চিঠি পাঠান।

এছাড়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মীর মোশারফ হোসেনকে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি। দুদকের জনসংযোগ শাখা জানায়, মোশারফ হোসেনকে নোটিশ পাঠান সংস্থার উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম। ওই নোটিশে তাকে আগামী ২৭ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, `যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি। সব কাজ সুষ্ঠু আর নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হয়েছে।` এ বিষয়ে দুদককে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস মীর মোশারফ হোসেনের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, তিনি রাজধানীর বনানী থানা আওয়ামী লীগের নেতা এবং শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক (প্রশাসন) বলেও দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

দুদক সূত্র জানায়, `শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প` নামে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এবং গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সিরাজগঞ্জ সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে শিয়ালকোল ইউনিয়নে ৩০ একর জমির ওপর মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রথম ধাপে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৬৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবরে প্রকল্পের খরচ ৩৯ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে মোট খরচ দাঁড়ায় ৮৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। টাকার অংকে খরচ বেড়েছে ২৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

প্রকল্প ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের বাজার দর বেড়ে যাওয়া, নতুন যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাব সংযোজন, মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, এসপিওয়াই ইন্ট্রাঅপারেটিভ ইমেজিং সিস্টেম, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, হার্টের রোগীদের জন্য সিসিইউ এবং আইসিইউ ইউনিটসহ ৬০টি মেশিন কেনাকাটায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। আর আসবাবপত্র কেনাকাটার নামে লুটপাট হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com