জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

সিঙ্গাপুরে আরো দুই বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত

প্রতীকী ছবি

খবরের আলো ডেস্ক :

 

 

সিঙ্গাপুরে আরো দুজন বাংলাদেশির শরীরে নতুন করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

এর আগে দেশটিতে আরো দুই প্রবাসী বাংলাদেশির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

প্রথম যিনি শনাক্ত হয়েছিলেন, দ্বিতীয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি তার সংস্পর্শেই ছিলেন। এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি জানান, এই দুই রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন এমন ১৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে সিঙ্গাপুর সরকার। এর মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশি। বুধবার করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নতুন এ তথ্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর।

তবে এই দুই রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৯ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্যই কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি। তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮ জনে। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পাসধারী ৩৭ ও ৩০ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে বৃহস্পতিবার সনাক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩১০ জনে। চীনের মূল ভূখণ্ডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ১৩৫৫ জন। হংকং ও ফিলিপাইনে দু’জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

জানা গেছে, বুধবার চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার আট শ ৪০ জন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

কেবল হুবেই প্রদেশে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩ হাজার ৬৯৩ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৩৩৭ জনের অবস্থা গুরুতর। এরই মধ্যে ৩ হাজার ৪৪১ জন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের দাপ্তরিক নাম কোভিড-১৯ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনা, ভাইরাস, ডিসিস এবং ২০১৯ সাল থেকে অক্ষর ও সংখ্যা যোগ করে কোভিড-১৯ নামকরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের আসলে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে, কাশি, সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো দেখে সেসবের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো ধরনের টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধ চলছে। ভাইরাস যুদ্ধ মোকাবিলা করছে চীন।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে অনেকটাই ইতিবাচক ফল আসছে। তবে এখনই স্বস্তির কিছু নেই। আরো অন্তত এক মাস এটি ভোগান্তির কারণ হবে। সবাইকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com