জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

ভালোবাসা দিবসের সূচনা যেভাবে

খবরের আলো ডেস্ক :

 

 

আজ প্রেমিক-প্রেমিকাদের ডাবল আনন্দ। কেননা দেশে আজ অনেক বছর পর পহেলা ফাগুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে। বসন্তের প্রথম দিনে বাসন্তি রংয়ের শাড়ি পরে আর মাথায় গাঁদা ফুল খুঁজে আনন্দে মেতেছেন নারীরা। তাদের সঙ্গ দিতে তরুণরাও হাজির হিমু সাজে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব জুড়েই ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। এই দিনটির সূচনা যেভাবে আমরা সেই ইতিহাসই বলবো এই নিবন্ধে।

জানা যায়, ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান যাজক ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দি করেন। কেননা তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি এক কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই যাজকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিলো আজকের এই দিনে।

এ ঘটনার প্রায় দু’শ বছর পর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইনস স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর- সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট- সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর- আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর- সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ- সেন্ট প্যাট্রিক ডে।

খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। পাকিস্তানে ২০১৭ সালে ইসলামবিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সেদেশের আদালত।

বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করতে এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।

আরেকটি খ্রিস্টীয় ইতিহাস মতে, গোটা ইউরোপে যখন খ্রিস্টান ধর্মের জয়জয়কার, তখনও ঘটা করে পালিত হতো রোমীয় একটি রীতি। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সকল যুবকরা সমস্ত মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে একটি পাত্রে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ওই বাক্স হতে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে ওই মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে ‘প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি’। বছর শেষে এ সম্পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হতো। এ রীতিটি কয়েকজন পাদ্রীর গোচরীভূত হলে তারা একে সমূলে উত্পাটন করা অসম্ভব ভেবে শুধু নাম পাল্টে দিয়ে একে খ্রিস্টান ধর্মায়ণ করে দেয় এবং ঘোষণা করে এখন থেকে এ পত্রগুলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে প্রেরণ করতে হবে। কারণ এটা খ্রিস্টান নিদর্শন, যাতে এটা কালক্রমে খ্রিস্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

অন্য আরেকটি মতে, প্রাচীন রোমে দেবতাদের রানি জুনোর সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালন করা হত। রোমানরা বিশ্বাস করত যে, জুনোর ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোনো বিয়ে সফল হয় না। ছুটির পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি লুপারকালিয়া ভোজ উত্সবে হাজারও তরুণের মেলায় র‍্যাফেল ড্রর মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই প্রক্রিয়া চলত।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে এমন অনেক প্রচলিত ঘটনা, তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়। একেকজন একেকভাবে এর যুক্তি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। এত মতদ্বন্দ্বের মধ্যে ভালোবাসা দিবস কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার হদিস পাওয়া যায় না।সূত্র: ইন্টারনেট

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com