জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
করোনা আতঙ্কে খাটের ওপর লাশ রেখে পালালেন স্বজনরা সন্ধ্যা না নামতেই ভুতুড়ে ঢাকা দেশে আইসোলেশন বেড ৭ হাজার ৬৯৩ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন খুনি মাজেদ পরিস্থিতি খারাপ হলে নারায়ণগঞ্জে কারফিউ লাগবেই: আইভি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারী ন্যায্যমুল্যের ৬৫ বস্তা চাল জব্দ আটক ৩ মাধবপুরে স্টেডিয়াম মাঠে করোনা ভাইরাসের কারণে অস্থায়ী বাজার শ্রীপুরের সাথে সংযুক্ত শ্রীপুর চৌরাস্তা ও বরমী বাজারের প্রধান রাস্তাটি লকডাউন করেছে এলাকাবাসী ‌ভোলার তজুমু‌দ্দি‌নে অসহায় মানুষ‌দের মা‌ঝে সাংসদ শাও‌নের খাদ্য সামগ্রী বিতরন মাধবপুরে পুলিশ সদস্য নিজের পিস্তলের গুলিতে আহত

প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকা মদের বিল দেন যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া!

ছবি- সংগৃহীত

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী :সমাজসেবা ও গাড়ি ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিনজন হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবাকেও (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সময় বহির্গমন গেট থেকে মফিজুর ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে পাপিয়া ও তায়্যিবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, বাংলাদেশি দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোন।

আরো পড়ুন: হোটেল ভাড়া করে চলতো পাপিয়ার অনৈতিক ব্যবসা​

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া পিউ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। এই নেত্রীর প্রকাশ্য আয়ের উৎস গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা। তবে এর আড়ালে তিনি মূলত অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা করতেন। কোনো কাজ বাগিয়ে নিতে পাঁচতারকা হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের পাঠিয়ে মনোরঞ্জন করতেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করছিল র‌্যাবের একটি দল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শনিবার সকালে তড়িঘড়ি করে দেশত্যাগের চেষ্টা চালান পাপিয়া। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্ট স্যুট সবসময় পাপিয়ার নামে বরাদ্দ থাকত। মোটা অঙ্কের টাকায় নারীদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজ করিয়ে আসছিলেন পাপিয়া ও তার স্বামী।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, হোটেল ওয়েস্টিনের ২১ তলার প্রেসিডেন্ট কক্ষটি গত নভেম্বর মাসে ভাড়া নেন পাপিয়া। তিনি গত তিন মাসে ওই কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করেছেন প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। ১৯ তলায় একটি বার রয়েছে, যেটি তিনি পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রতিদিন তিনি আড়াই লাখ টাকা মদের বিল পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে দেখা যায়, গত তিন মাসে তিনি প্রায় তিন কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষকে।

আরো পড়ুন: মহিলা লীগ নেত্রী থেকে পতিতা ও মাদক সম্রাজ্ঞী​

তিনি বলেন, গাড়ির ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সমাজসেবার নামে তিনি নরসিংদীর অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে আসছিলেন। অধিকাংশ সময় তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন। সেখানে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদারদের অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নারী সবরবরাহ করাই ছিল তার মূল কাজ।

কর্নেল শাফী আরও বলেন, নরসিংদীতে চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র-মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন। তিনি গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে বুক করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন। সেখানে তার অধীনে থাকা সাত নারীর কথা জানতে পেরেছে র‌্যাব। তাদের তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে টাকা দিতেন।

র‌্যাব জানায়, দেশে স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে বারের ব্যবসা রয়েছে মফিজুর রহমানের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র-মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন।

তিনি স্ত্রীর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। নরসিংদীর ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে চলে মাদক ব্যবসা। জেলা শহরের বাইরে গেলে ক্যাডার বাহিনী তাকে বিশাল গাড়িবহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে। অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে আয় করা টাকায় নরসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার সবসময় পাপিয়ার সঙ্গে থাকতেন। তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। পাশাপাশি তার সব অবৈধ ব্যবসা, অর্থপাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করতেন।সুত্রঃবাংলাদেশ জার্নাল

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com