জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০, ০৩:২১ অপরাহ্ন

করোনা: ঝুঁকির মুখে দেশের চিকিৎসকরা

খবরের আলো ডেস্ক :

 

 

সরকার নানা আশ্বাস দিলেও আসলেই কি বাংলাদেশের চিকিৎসকরা নিরাপদে কাজ করছেন? চিকিৎসকদের কাছ থেকে যে তথ্য মিলছে, তাতে ভয়াবহ ঝুঁকির চিত্রই উঠে আসছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তো নিরাপত্তা সরঞ্জামের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. আব্দুর নূর তুষার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ডয়চে ভেলকে বলেন, ‘আমরা কাউকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলব না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমাদের আছে, সেগুলো তাদের দেওয়া হচ্ছে।’

পরীক্ষার কিট কী পরিমাণ আছে? জবাবে ডা. আজাদ বলেন, ‘গতকালও (শুক্রবার) ১০ হাজার এসেছে। আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাড়ে তিন হাজার দিয়েছে, এর সঙ্গে আরও দেড় হাজার এসেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে এক লাখ চলে আসবে। আমরা এক লাখ না, দুই লাখ কিট মজুদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

গত শুক্রবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোরশেদ রশীদ স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ‘সম্পদের স্বল্পতার জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে সকলকে মাস্ক সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ঝুঁকি এড়াতে সকলকে নিজ উদ্যোগে মাস্ক ব্যবহার করতে অনুরোধ জানানো হলো।’

এই নোটিশের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা এই নোটিশ দিয়েছেন। আমরা তাদের এই নোটিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছি।’

গত বৃহস্পতিবার সকালে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় নিজেদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরে তাদের দাবি মেনে নেয়া হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আবার কাজে যোগ দেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসক আছেন। তাদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা আগে করেনি। অথচ সব ধরনের রোগী হাসপাতালে আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাদের হাসপাতালে ভর্তি করার কাজ তাদের করতে হচ্ছিল।

গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিসের (এফডিএসআর) পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ডা. আব্দুর নূর তুষার বলেন, ‘সারাদেশ থেকে চিকিৎসকরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। করোনাভাইরাস নিয়ে তারা খুব উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে অনেক জ্বরের রোগী দেখতে হয়। এর মধ্যে কারো শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই। নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মাস্ক, গ্লাভস বা কোনো পোশাকও নেই। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেই মনে করি।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আগে ছিল না, তবে এখন এসেছে। আমরা আজই চিকিৎসকদের মধ্যে নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়েছি। আরও কিছু মজুদ আছে। অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হয়েছে। তবে আমার হাসপাতালে ৫০০ চিকিৎসক আছে। সবাইকে তো পিপিই দিতে পারব না। শুধুমাত্র যারা এই ধরনের রোগী হ্যান্ডেল করছেন তাদের এটা দেওয়া হচ্ছে।’ -ডয়চে ভেলে

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com