জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

বেনাপোল সীমান্তে ভারত থেকে আসছে বিনা পাসপোর্টধারীরা, ঝুকি বাড়ছে করোনা ভাইরাসের:শঙ্কিত এলাকাবাসী

খবরের আলো :

 

 

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সহ বিভিন্ন সীমান্তে ভারত থেকে প্রায় প্রতিদিনই আসছে বিনা পাসপোর্টধারীরা।এতে ঝুকি বাড়ছে করোনা ভাইরাসের,শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শার্শা উপজেলার বাসিন্দারা।

বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে বিরাজমান ঠিক তখনি যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন রুটে বেড়ে গেছে বিনা পাসপোর্ট যাত্রীদের আনাগোনা। বাংলাদেশের এই নাগরিক গুলো পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধ পথে ভারতের বোম্বে, দিল্লি, কেরালা, মাদ্রাজ,কলকাতাসহ অন্যান্য শহরে কাজ করে থাকে বলে এলাকাবাসী সূত্র থেকে জানা যায়।

এরই মাঝে বেড়ে চলছে মানব পারপারের রমরমা ব্যবসা। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ভারতের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক করোনা ভাইরাসকে মহামারী ঘোষণা করায় নতুন করে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সীমান্তের কয়েকটি মানব পারাপারকারি চক্র অবৈধ সীমান্ত পথে সুযোগ বুঝে জন প্রতি ১০/১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিনা পাসপোর্টে (ধূঢ় স্থানীয় ভাষা) পারাপার করছে।

শার্শা উপজেলার সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে যেকোন মুহুর্তে সীমান্তবাসীকে করোনা ভাইরাস গ্রাস করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সীমান্তের অধিকাংশ জনবসতি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম বড়আঁচড়া, গাতিপাড়া, দৌলতপুর ও পুটখালী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান,পুলিশ-বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সীমান্তের একটি মানব পাঁচারকারি চক্র এসকল সীমান্ত ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ নারী-পুরুষ ও শিশু পারাপার করছে। জনপ্রতি ১০/১২ হাজার টাকা উপার্জন হওয়ায় তারা জাতীয় মহামারী করোনা ভাইরাসকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিদিনি মানব পারাপারের এ রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

সীমান্তের গ্রামবাসীরা আরো জানান, চক্রটির সদস্যরা নিজেরাও জানেনা যে বাড়তি আয়ের লোভে তারা প্রানঘাতী করোনা ভাইরাস বহন করে আনছেন দেশের অভ্যান্তরে। যা তাদের পরিবারের জন্য যেমন মরণাস্ত্র তেমনি সীমান্তবাসীর জন্য তা খুবই ভয়ঙ্কর।

অনেকে আবার দ্বায়ী করছেন সীমান্তের মানব পাচার দালাল সিন্ডিকেটকে। এতে গ্রামবাসীরা বলেন বলেন, সীমান্তের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরব কেন? ভারত সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারি নারী-পুরুষ ও শিশুরা কিছু সময় ধরে অবস্থান করে এলাকার দালালদের বসত-ভিটায়। পরে ইজিবাইক ও মটর সাইকেল, ভ্যান যোগে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাচ্ছে। যা এলাকার সাধারণ মানুষ দেখলেও পুলিশ-বিজিবি দেখছেন না কেন?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানব পারাপার কাজে জড়িত এক দালাল জানান, স¤প্রতি ভারত সরকার ইন্ডিয়ান ভিসা বন্ধ করে দেওয়ায় সীমান্তের চোরাই পথে বিনা পাসপোর্টধারীরা (ধূঢ় স্থানীয় ভাষা) পারাপার বেড়েছে। অজ্ঞাত কারণে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা ভারত হতে লোক আসতে বাধা দিচ্ছে না। তবে ভারত হতে লোক নেওয়ার সময় কোন কোন ক্ষেত্রে ফেরত দিচ্ছে বিজিবি সদস্যরা। দু’দেশের ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতে যেমন লম্বা লাইন দেওয়া হতো তদ্রæপ সীমান্তের মানব পারাপার সিন্ডিকেট প্রক্রিয়ায় সীমান্ত পারাপারেও লাইন দিতে হচ্ছে। যা দৌলতপুর, পুটখালী ও গাতিপাড়া সীমান্তের স্থানীয় গ্রামবাসী ও চা দোকানদারদের সাথে কথা বললে জানা যাবে যে, প্রতিদিন কি পরিমাণের অবৈধ পারাপার হচ্ছে। করোনা ভাইরাস ধরে আতঙ্কের মধ্যে কিছুদিন আগেও ভারতীয় বিএসএফ সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে কমপক্ষে ২০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যে ঠেলে পাঠায়৷ পরে বিজিবি সদস্যদের করা প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে আবার ঐ স্থান থেকে সরিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করার শর্তে করোনা আতঙ্কে খুব আক্ষেপের সহিত বলেন, প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ-শিশু পারাপার হচ্ছে। আমাদের গ্রামে অবস্থান করছে।

সময় বুঝে মটরসাইকেল ও ইজিবাইকযোগে বেনাপোল বাজারে গিয়ে বাস ও রেলযোগে গন্তব্য স্থানে চলে যাচ্ছে। এতে সীমান্তবাসী যেমন মরণঘাতী করোনা আতঙ্কে ভুগছে তেমনি বাস ও ট্রেনে করে এসব অবৈধ পারাপারকারিরা করোনা ভাইরাস ছড়াতে ছড়াতে যাচ্ছে। এসব দালালদের কতো টাকা দরকার? এদের বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন? মানুষের জীবনের চাইতে কি টাকার মূল্য অনেক বেশি? সিন্ডিকেট মালিক ও ধূঢ়ের দালালরা আপনাদের কতো টাকা দেয়? এভাবে মনের কস্টে আর করোনা আতঙ্কে অনেক কথাই বললেন তিনি।

এ বিষয়ে খোজখবর নিতে সীমান্তের মানব পারাপারকারি কয়েকটি ধূঢ় সিন্ডিকেট তথা মানব পারাপারকারিদের নাম পাওয়া যায়। এরা হলো- রাজাপুর গ্রামের আনিছুর রহমান ওরফে কালো আনিচ, নামাজগ্রামের চিত্র, বড়আঁচড়ার ছোট আনিচ, অশোক, বজু, কার্ত্তিক, গাতিপাড়ার মিজান, তবি, হাফিজুর, মন্টুসহ অনেকে।

এ বিষয়ে ২১বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মঞ্জুর-ই -এলাহীর মুঠোফোনে অবৈধ পারাপার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীদের ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা জিরো টলারেন্সে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য দিয়ে সহোযোগীতা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে যশোরের নাভারণ সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, মহামারী করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে এ এলাকায় পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্হানে রয়েছে। তবে, সীমান্ত পারাপার হওয়ার বিষয়টি কেবল বিজিবির এখতিয়ার। কোন মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসে স্বাভাবিক ভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করলে আমাদের জন্য করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা কঠিন হবে। তবে আপনাদের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই আমরা এ সকল অবৈধ অনুপ্রবেশের কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব বলে তিনি আশ্বাস দেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com