জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

কে.এম রফিক স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশকারী রাতারাতি কোটিপতি

মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান রনি : গত ১২ই মার্চ দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকায় প্রচারিত একটি সংবাদ একেএম রফিকের নামে প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটি ছডি়যে় পডে় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে।বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার আন্দার মানিক ইউনিয়নের ভাংগা ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপির সভাপতি কুখ্যাত রাজাকার আবুল কাশেম খাঁনের ছেলে কে. এম. রফিক। বিগত ১২/১৩ বছর আগে তাঁর বাবা ও ভাই খোকন খাঁন সহ রফিক লঞ্চে লঞ্চে যাত্রীদের কাছে রুটি ফেরী করে বিক্রি করতো। রফিক বিএনপির আমলে বরিশাল উত্তরের এক সময়ের ছাত্রদলের নেতা ছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ধূর্ত রফিক তোশামদ করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার মন জয় করে নেয় এবং নিজেকে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি বলে পরিচয় দিতে থাকেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি পরিচয় দিয়ে এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙিয়ে কে. এম. রফিক কতিপয় দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটের বিহঙ্গ ও প্রজাপতি নামক পরিবহন চলাচলের রুট পারমিশন নেন। পরিবহনের রুট পারমিশন পাওয়ার পরেই রফিক বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরিবহনে বিরামহীন চাঁদাবাজি ও হেলপার সুপারভাইজার নিয়োগের নামে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে অল্পদিনেই রুটি বিক্রেতা রফিক বনে যান কোটিপতি! বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের নাম ভাংগিয়ে ঢাকায় ও বরিশালে শুরু করেন অবৈধ্য কেসিনিও ও মাদক ব্যবসা। অবৈধ্য অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্য বিস্তার করতে চাইলে বিষটি সাংসদের নজরে আসে এবং মাননীয় সংসদ সদস্য রফিককে এলাকা থেকে বের করে দেন। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশের আগে রফিক বিএনপির আমলে জয়নাল আবেদিন ফারুখের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এ বিষয়ে এলাকার গন্যমান্য সবাই অবগত আছেন।
কালো টাকার প্রভাবে কিছুদিন আগে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রফিক আওয়ামিলীগ থেকে নমিনেশন চান এবং তাহার কু-কর্মের কথা জেনে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগে তাকে নমিনেশন দেন নি। পরর্বতীতে সে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের বিপক্ষে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন এবং বিপুল পরিমান কালো টাকা তাহার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীদের পিছনে খরচ করেন। কিন্তু অই এলাকার সমগ্র জনগন তাহার বিরুদ্ধে অবস্থান করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা জনাব এ.কে.এম মাহফুজুল আলমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন। উক্ত নির্বাচনে রফিক ৫ লক্ষ ভোটের মধ্য মাত্র তিন শত ভোটের কম পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। কিন্তু এলাকায় তাহার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীরা জুয়া,মাদক এবং ডাকাতির মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তাহার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীদের মেদেন্দিগঞ্জ ও হিজলা থানার পুলিশ ধাওয়া করলে তারা ঢাকা চলে আসে এবং সে তাহার সন্ত্রাসী বাহিনীদের কে তার বিহঙ্গ ও প্রজাপতি নামক পরিবহনের ভিভিন্ন রুটে সুপারভাইজার ও লাইন ম্যান হিসেবে পদায়ন দিয়ে পরিবহন চাঁদাবাজী করান। ছবিতে বিএনপি নেতা মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কে. এম. রফিক(গোল চিহ্নিত)।

কে এম রফিক বিভিন্ন সময় এক এক সরকারি দলীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গিযে় বিহঙ্গ পরিবহন ও প্রজাপতি পরিবহন এর কাছ থেকে চাঁদা উঠায়।

সে প্রতিটি গাডি় ঢুকার জন্য ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নেয়। সে ডেইলি রুট ফি ৩০০ টাকা ধার্য থাকলেও আজ ১১০০ টাকা করে আদায় করে। প্রতিটি লাইন ম্যান, সুপারভাইজার চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিযে় নিচ্ছে। এক দিকে আইডি বের করে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ছবি তুলে তাদের নাম ভাঙ্গিযে় রাতারাতি নেতা হযে় যান।
এ পরিবহনে প্রজাপতি ও বিহঙ্গ পরিবহনের সকল মালিকগণ তাদের বডি চেসিস রফিক এর মাধ্যমে নিতে হয়।
কে এম রফিক তার ডানহাত হিসেবে মোঃ আক্তার হোসেন, পিতা: ইয়াসিন মল্লাহ কে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ক্যাসিনো, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা করান।

পরে সাংবাদিকবৃন্দ এ ব্যাপারে খবর নিযে় দেখে কে এম রফিক এর ডান হাত আক্তার হোসেন। সে বিভিন্ন গ্রেফতারি পরোয়ানা ওয়ারেন্টের আসামী। ওয়ারেন্ট নাম্বার ৪৪৮০ ও তারিখ ০৫/১০/১৫
, ২২/৫/২০১৪, ২৫/০৬/২০১৮ বিভিন্ন মামলায় তার নামে ওয়ারেন বের হয় বিভিন্ন তারিখে। তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রযে়ছে কে এম রফিকের।

প্রজাপতি এবং বিহঙ্গ পরিবহনের বেশির ভাগ গাডি়র ইঞ্জিন এবং চেসিস এবং ফিটনেসবিহীন গাডি় ঢাকা শহরে চলছে। বিভিন্ন সমযে় ঘটে চলেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এই সম্পর্কে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না এদের ভযে়। কিছুদিন আগেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়ার জন্য বললে শিক্ষার্থীদের উপর হাত তুলে প্রজাপতির হেলপাররা। বেপরোয়া গাডি় চালানোর কারণে অকালে ঝরে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ। আইন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এদের ব্যাপারে এবং এদের লাইনের দুর্নীতির ব্যাপারে যেন সবার সদয় দৃষ্টি দেন। আর যেন অকালে মরতে না হয় কাউকে। ফিটনেসবিহীন গাডি় এখনো ঢাকা শহরে চলছে। এদের ফিটনেসবিহীন গাডি় বন্ধ করে জনস্বার্থে এগিযে় আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে।সূত্র : উচ্চকণ্ঠ অনলাইন নিউজ পোর্টাল,দৈনিক আমার সময়

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com