জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

ত্রিশালে পাওয়া যাচ্ছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার

খবরের আলো :

 

 

এনামুল হক: ময়মনসিংহ ত্রিশালের উপজেলা শহর সহ বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকান গুলোতে হাত ধোঁয়ার স্যানিটাইজারের ক্রেতা বেড়েছে কিন্তু পাচ্ছে না স্যানিটাইজার। সুরক্ষার কথা চিন্তা করে যখন মেডিসিন সপ্গুলোতে খোঁজ নিচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ক্রয় করার জন্য তখন নিরাস হয়ে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিকট সংকটে দেখা দিয়েছে ত্রিশাল বাজারের মেডিসিন সপ্গুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের।

এছাড়া আগে থেকেই চাহিদার তুঙ্গে থাকা সার্জিক্যাল মাস্কের চাহিদাও বেড়েছে। তবে ত্রিশাল ও ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও এ ধরনের মাস্ক না পেয়ে ধুলা ঠেকাতে সক্ষম সাধারণ কাপড়ের মাস্ক কিনে ফিরছেন আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ।

হাতের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষজ্ঞরা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। হাত ভালোভাবে না ধুয়ে তা নাকে-মুখে না দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। এতদিন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত না হওয়ায় প্রস্তুতি নেয়নি দেশবাসী। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসজনিত (কভিড-১৯) রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মেডিসিন স্টোরগুলোতে ছুটে যান অনেকে। কিন্তু স্যানিটাইজার না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিন্তিত সোহেল হাবীব তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে স্যানিটাইজার কেনার পরামর্শ দেন। তার স্ত্রী দরিরামপুর এলাকার কয়েকটি ওষুধের দোকানে গিয়ে স্যানিটাইজার খোঁজা খুজি করেও পাননি। এলাকাতেই স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছে না বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রেজাউল করিম মাসুম নামে এক ক্রেতা।

বিক্রেতা মো. আকরাম হোসেন বলেন, হঠাৎ করে অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন। সবাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সার্জিক্যাল মাস্ক খুঁজছেন। আমাদের কাছে তখন পর্যাপ্ত মজুদ ছিল। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করছি। ২০০ মিলিলিটারের স্যাভলন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ২০০ টাকা, ৫০ মিলিলিটারের স্যাভলন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৮০ টাকা ও ২৫০ মিলিটারের হেক্সিসল ১৩০ টাকা করে বিক্রি করেছি। চাহিদা বাড়লেও দাম বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, হঠাৎ করে স্যানিটাইজারের চাহিদা বাড়ার কারণ প্রথম দিকে বুঝতে পারিনি। পরে ক্রেতাদের কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারলাম যে দেশে করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ত্রিশাল বগার বাজার এলাকার গৃহবধূ শারমিন আক্তার নিপা জানান, এতদিন করোনাভাইরাস নিয়ে মনের মধ্যে কোনো ভয় ছিল না। কারণ অন্য দেশে যাই হোক, বাংলাদেশে শনাক্ত না হওয়ার কারণে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কাও ছিল না। এখন যেহেতু দেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং বিভিন্ন জেলায় ছরিয়ে পরেছে, তাই পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার জন্য ওষুধের দোকানে থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেওয়ার জন্য আসছি কিন্তু স্যানিটাইজার পাচ্ছি না। মনে হয় দোকনীরা তাদের কাছে মজুদ রেখেও ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন যাতে পবর্তিতে বেশী দামে বিক্রি করতে পারে। তা না হলে এমন সংকট হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো. সোহাগ মিয়া বলেন, কারখানায় উৎপাদন ও মজুদ পরিস্থিতি দেখে এসেছি। তাতে দেখা গেছে, স্যানিটাইজারের সংকট সৃষ্টির কোনো কারণ নেই। দেশজুড়ে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজার সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে তৈরী কারক প্রতিষ্ঠনগুলোর। আর চাহিদা যতই বাড়–ক পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করি। এ বিপদের সময়ে কোন কোম্পানি নিজে তো দাম বাড়াবেই না, বিক্রেতারাও যেন দাম বাড়াতে না পারেন, সেজন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে আমি জানি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com