জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ০২:৫১ অপরাহ্ন

করোনা নিয়ন্ত্রণে আরো কড়া হচ্ছে বিশ্ব

খবরের আলো ডেস্ক :     

 

                                                     ►সংক্রমণে চীনকে ছাড়াল স্পেনও
                                                     ► যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু লাখ ছাড়াতে পারে : ট্রাম্প

আক্রান্তের বিচারে নতুন করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনকে আরো আগেই ছাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো স্পেনের নাম। চীনে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৮১ হাজার; সেখানে স্পেনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। জনজীবনের ওপর বিধিনিষেধ বেড়েছে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও। যুক্তরাষ্ট্রে ঘরবন্দি থাকার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরো ৩০ দিনের জন্য। সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল থেকে তিন সপ্তাহের জন্য অবরুদ্ধ করা হয়েছে জিম্বাবুয়েকে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর সোয়া কোটি মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে গতকাল থেকে। আর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ইতালির পর করোনায় মৃত্যুপুরীর রূপ নিয়েছে স্পেন। দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে গত রবিবার। এর পরের ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরো ৮১২ জন। এতে করে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৩৪০ জনে। এ সময়ে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ১৯৫-তে। গত ১৪ মার্চ দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এ ঘোষণায় স্পেনের চার কোটি ৬০ লাখ মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এই অবস্থা কার্যকর থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে স্পেনে হাজার হাজার পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ। এর পরও পরিস্থিতি কিছুতেই সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার টেলিভিশন বক্তৃতায় বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় কাজে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। আগামী দুই সপ্তাহ এই কড়াকড়ি বলবৎ থাকবে।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরবন্দি থাকার নির্দেশিকা ৩০ দিন বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা এক লাখ বা তারও বেশি হতে পারে। মৃতের সংখ্যা এক লাখ বা এর নিচে থাকলে ‘সম্মিলিতভাবে খুব ভালো কাজ হবে’। এর আগে রবিবার সকালে সিএনএনের টকশো ‘স্টেট অব দি ইউনিয়ন’ এ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফুচি বলেন, করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ বা তারও বেশি লোক মারা যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ডা. ফুচির মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওই স্বীকারোক্তি দেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ১২ এপ্রিল ইস্টারের সময় দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। ট্রাম্প জানান, কভিড-১৯-এ সম্ভাব্য মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে এদিন (রবিবার) তিনি ‘সবচেয়ে সঠিক’ ও ‘বিশদ’ তদন্ত ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পেয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, যদি আমরা কিছু না করি তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৯৪৪-তে। মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৮১০ জনের।

আক্রান্তের বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের পরই আছে ইউরোপের দেশ ইতালি। গতকাল সেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে সাড়ে ১১ হাজার। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ৯ মার্চ সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে ইতালি সরকার। এতে করে ঘরবন্দি হয় ছয় কোটি জনগোষ্ঠী। যারা নিষেধাজ্ঞা মানছে না, তাদের চার শ থেকে তিন হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। দেশটিতে সুপারমার্কেট, ব্যাংক, ফার্মেসি ও পোস্ট অফিস ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘোষণা ৩ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও তা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিশ্বের অন্যান্য স্থানে কড়াকড়ি বাড়লেও চীনের উহানে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে আসছে। করোনা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ষষ্ঠ দিনের মতো ভাইরাসের উৎসস্থল উহানে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। গত রবিবার চীনে যে ৩১ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে তার মধ্যে ৩০ জনই বিদেশফেরত। বাকি একজন কানসু প্রদেশে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছে।

করোনা ঠেকাতে গতকাল অবরুদ্ধ করা হয়েছে রাশিয়ার মস্কো শহরের সোয়া কোটি বাসিন্দাকে। নাগরিকরা কেবল জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে। মস্কো কর্তৃপক্ষ বলছে, নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকানের জন্য বাইরে যাওয়া যাবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলতেও ঘরের বাইরে বেরোনো যাবে। তবে এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মস্কোর মেয়র সার্জেই সোবায়ানিন তাঁর ব্লগে লেখেন, নাগরিকরা বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের বাইরে যেতে পারবেন না।

এদিকে মস্কোর মতো অন্যান্য শহরে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৩৬ জন।

আর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গতকাল বলেছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। এ জন্য প্রাদেশিক সরকারগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছি।

সার্বিক পরিস্থিতি

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চল কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৫৯ হাজার ৩০২-তে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৩২ জনের। সুস্থ হয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৪১৫ জন। ফলে সর্বশেষ কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫-তে। এদের মধ্যে পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার বা ৯৫ শতাংশ রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর নয়। বাকি ২৯ হাজার মানুষের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রাণঝুঁকিতে আছে এই ৫ শতাংশ রোগী। সূত্র : এএফপি, গার্ডিয়ান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com