জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৫৫দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
৪৩মিনিট
:
৩৭সেকেন্ড

শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

তিন সহস্রাধিক বন্দি মুক্তি পেতে পারে

বুধবার, ০১ এপ্রিল : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কিছু কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ সারা দেশের কারাগারে থাকা বৃদ্ধ, অচল ও অক্ষম এমন তিন সহস্রাধিক বন্দির তালিকা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স কর্নেল আবরার হোসেন এ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তৃতি ঠেকাতে ইরানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ৫৪ হাজারেরও বেশি কয়েদিকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। যাদের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া যাবে না শুধু তাদেরই মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বন্দিদের উপচে পড়া ভিড় থেকে তিন হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন ওই দেশের উচ্চ আদালত। প্রথম দফায় তিন হাজারের বেশি বন্দিকে জামিন ও প্যারল দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব অপরাধে সাজা কম মেয়াদের, সেসব মামলায় বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মুক্তি দেওয়া যায় এমন বন্দিদের তালিকা চেয়ে পাঠায়। এরপর কারা অধিদপ্তর সারা দেশের কারাগার থেকে তিন হাজারের বেশি বন্দির তালিকা সংগ্রহ করে গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। যারা বৃদ্ধ, অচল ও অক্ষম তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব বন্দির সাজা খাটা প্রায় শেষের দিকে তাদের নামও তালিকায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই তালিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করবেন। সেখানে এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে কি না সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক কারা কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন দিবসে এই ধরনের বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সংখ্যায় কম। এবার করোনাভাইরাসের কারণে বেশিসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে করোনার কারণে সরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে। তবে বন্ধের মধ্যেই তাদের মুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হতে পারে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশের ৬৮টি কারাগারে ৮৩ হাজার ১২১ জন বন্দি ছিল। কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৩৯ হাজার ৩৯৫ জন। সেই হিসাবে বর্তমানে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। এই বন্দিদের মধ্যে বিচারাধীন মামলার বন্দির সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৮ জন। যার মধ্যে পুরুষ ৬১ হাজার ৩৪৩ ও নারী দুই হাজার ৬১৫ জন। আর সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি রয়েছে ১৮ হাজার ৪৪৩ জন ও নারী ৬৮০ জন। এত বন্দির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস তাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কোনো একটি কারাগারে এই ভাইরাস হানা দিলে তা রোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে তারা আগেভাগেই ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো বন্দির জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই তাকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে। কারা চিকিৎসকরা খোঁজখবর রাখছেন। কারাগার পরিষ্কার রাখাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।সুত্রঃকালের কণ্ঠ অনলাইন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com