নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের হরিচন্দ্রপুর নতুন গ্রামের বাসিন্দা মনসুর হুদার ছেলে মো. লস্করের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং বর্তমানে সাভারে অবস্থান করে কথিতভাবে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে অর্থ পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর ও তাঁর ভাই তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন মো. লস্কর। তাদের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিবন্ধীদের একটি স্কুলের কার্যক্রম ও চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে লস্করের সম্পৃক্ততা ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে অর্থ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নিয়োগের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে লস্কর এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতেন। এমনকি আওয়ামী লীগ দোসরের আমলে জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে, সেই পরিচয়ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভারে নতুন পরিচয়ে অবস্থানের অভিযোগ
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—বর্তমানে ঢাকার সাভার উপজেলায় নিজের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় কর্মকাণ্ড আড়াল করে সাভার উপজেলার একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন মো. লস্কর। এ ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক লেনদেনে অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, চুয়াডাঙ্গার সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর ও তাঁর ভাই আলী মনসুর বাবু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন কৌশলে অর্থের লেনদেন করা হচ্ছে। এমনকি কথিতভাবে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোরও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লস্করের বাড়ি ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে ভারতে যাতায়াত করেন—এমন কথাও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি
লস্করের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে চাকরির নামে অর্থ গ্রহণ, সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মো. লস্করের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চলমান—পর্ব (১)




