জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চুরি করা ১১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে জামালপুর সদর, মেলান্দহ, শেরপুর সদর ও শ্রীবরদী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের দিকনির্দেশনায় ডিবির উপপরিদর্শক মো. সোহাগ রানা ও উপপরিদর্শক মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর জামালপুর সদর থানায় দায়ের করা একটি মোটরসাইকেল চুরি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় ডিবি। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রের সদস্য নীরব হোসেন বিভিন্ন স্থান থেকে সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল চুরি করত। পরে আবু বকর সিদ্দিকের মাধ্যমে চোরাই মোটরসাইকেলগুলো জামালপুর, মেলান্দহ, শেরপুরসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করা হতো বলে পুলিশের দাবি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম—জামালপুর সদরের নীরব হোসেন, মাহফুজ আহমেদ ও রবিউল ইসলাম সোহাগ; মেলান্দহের মো. বরকতউল্লাহ ওরফে সবুজ ও আবু বকর সিদ্দিক; শেরপুর সদরের মো. ওমর ফারুক এবং শ্রীবরদীর মো. সাদ্দাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাজাজ ডিসকভার, টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর, হিরো হাঙ্ক ও বাজাজ পালসারসহ বিভিন্ন মডেলের ১১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা শনাক্তের কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মোটরসাইকেল চুরি সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাবোধ ও আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচাও আইনত অপরাধ। তাই পুরোনো মোটরসাইকেল কেনার সময় বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার জন্য তিনি ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।
পুলিশের দাবি, চক্রটির পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




