১৩ই জুন, ২০২৬

পেসারদের উইকেটে মিরাজের পাঁচ, লিড পেল না পাকিস্তান

৫ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ৭/০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬

মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ঘটনা ঘটল। আগে থেকেই মেঘলা হয়ে থাকা আকাশ থেকে ঝরতে শুরু করল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, যে কারণে দ্বিতীয় ঘটনা—খেলাই বন্ধ হয়ে গেল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এরপর তীব্র হলো। সেটা এতটাই যে দিনের খেলা আর হবে কি না, তা নিয়ে প্রেসবক্সে সংশয়। তবে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ঝলমলে রোদে সব সংশয় দূর। দিনের খেলার দৈর্ঘ্য ৪৫ মিনিটের মতো বাড়িয়ে আবারও মাঠে ফিরলেন ক্রিকেটাররা।

কিন্তু ফেরাটা সুখকর হয়নি পাকিস্তানের জন্য এবং তার জন্য তারা ‘দায়ী’ করতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে। এই টেস্টের আগে মিরপুরের সবুজ উইকেটে আলোচনাটা পেসারদের নিয়েই বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত আঅল কাজটা করে দিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজই। টেস্ট ক্রিকেটে ১৪তম বারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে লিড নেওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়ায় অবদানটা তাঁরই বেশি।

তাসকিনের বলে শূন্য রানে আউট হয়েও ‘নো’ বলের কারণে বেঁচে যাওয়া সালমানের ততক্ষণে ফিফটি (৫৮) হয়ে যাওয়ায় কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছিলেন তিনি। তবে শঙ্কাটাই সত্যি হয়েছে শেষ পর্যন্ত। দুই ঘণ্টার বৃষ্টিবিরতি শেষে খেলা শুরুর তৃতীয় ওভারে স্লিপে নাজমুলের ক্যাচ হয়ে সালমান পরিণত হন নাহিদ রানার একমাত্র শিকারে। এরপর দ্রুতই শেষ দেখে ফেলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।

সালমানকে আউট করেছেন নাহিদ রানাশামসুল হক

মিরাজের নেতৃত্বে সারা দিনে বাংলাদেশের বোলাররা পাকিস্তানের ৯ উইকেট ফেলেছেন, তাসকিন আহমেদ উদ্‌যাপন করেছেন টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেট এবং তৃতীয় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইসকেও থামিয়ে দেওয়া গেছে তিন অঙ্কে (১০৩) যাওয়ার পরপরই।

দিনের শেষ বেলায় শুরু বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসটা ১.৫ ওভার হতেই আলোকস্বল্পতায় বর্ধিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায় খেলা। ততক্ষণে বিনা উইকেটে আরও ৭ রান যোগ হয়ে বাংলাদেশের লিড ৩৪ রানের। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া সময় পোষাতে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট এগিয়ে ৯টা ৪৫ মিনিটে।

দিনের প্রথম সেশনটা ছিল পুরোপুরিই বাংলাদেশের বোলারদের। আরও নির্দিষ্ট করে বললে তাসকিন আর মিরাজের। আগের দিনের ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে শুরু করে লাঞ্চের আগে ৭২ রান তুলে পাকিস্তানকে হারাতে হয় ৪ উইকেট, যেগুলো ভাগ করে নেন তাসকিন আর মিরাজ।

ব্যক্তিগত ৮৫ রানে দিন শুরু করা ওপেনার আজান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাহিদ রানার বলে এক রান নিয়ে। ১৫৩ বলের ইনিংসে ১৪টি চার পাকিস্তান দলে থাকা সাত বাঁহাতির মধ্যে এই এক বাঁহাতির।

মন্তব্য করুন