ইসলাম বিজয়কে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সূচনাও হিসেবে দেখে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে এবং মানুষের মাঝে বিচার করলে ন্যায়বিচার করতে।” (সুরা নিসা : ৫৮)। অর্থাৎ, বিজয় অর্জনের পর শাসনক্ষমতা বা স্বাধীনতা যদি আসে, তবে তা ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যবহার করাই মুসলিম রীতি।
মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরের প্রেক্ষাপটে এই কোরআনিক ও নববী শিক্ষা আমাদের জন্য গভীর তাৎপর্য বহন করে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় আমাদের কেবল আনন্দের অধিকারই দেয় না; বরং আমাদের ওপর ন্যস্ত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের দায়িত্ব। ইসলামের আলোকে বিজয় উদযাপন মানে হচ্ছে- রাষ্ট্রে প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া, শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি নিজেদের চরিত্র ও কর্মপরিকল্পনা শুদ্ধ করা।
সবশেষে বলা যায়, মুসলিম রীতিতে বিজয় কোনো উল্লাসের সমাপ্তি নয়; এটি আত্মসংযম, নৈতিক দৃঢ়তা ও আল্লাহমুখী জীবনের নতুন সূচনা। কোরআনের ভাষায়, প্রকৃত বিজয় সেই বিজয়—যা মানুষকে অহংকারে নয়, বরং বিনয় ও দায়িত্ববোধে আরও উচ্চতর করে তোলে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি নিজ মাতৃভূমিকে কল্যাণময় রাষ্ট্র হিসেবে গড় তুলতে ভুমিকা রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।





