ময়লা না ফেলতে সাইনবোর্ড, নিচেই ময়লার স্তূপ

 

মোঃএকলাছ উদ্দীন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

‘মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করা হলো’—সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এমন সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের পাশে। কিন্তু সাইনবোর্ডটির ঠিক নিচেই পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, পচা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এমনকি আগে ময়লার স্তূপ ঢাকতে ফেলে রাখা বালুর ওপরও জমেছে নতুন ময়লা।

সোমবার ২৮ই সেপ্টেম্বর কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা এনে মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরে বিভিন্ন যানবাহনে করে ময়লা এনে এখানে ফেলা হয়। দিনের বেলায় সাইনবোর্ড থাকলেও রাতে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের পাশে মহাসড়কের দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপের ওপর বালু ফেলে তা আড়াল করা হয়েছিল। সফরের আগে ট্রাকে করে বালু এনে ময়লার স্তূপ ঢেকে দেওয়া হয়। তবে এক মাস না পেরোতেই সেই বালুর ওপর আবারও জমেছে ময়লা-আবর্জনা।

স্থানীয় পথচারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে কয়েক দিন এখানে ময়লা ছিল না। এখন আবার আগের মতো হয়ে গেছে। সাইনবোর্ড লাগানো আছে, কিন্তু তার নিচেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। তাহলে সাইনবোর্ড দিয়ে কী হবে?’
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও এখানে ফেলা হতো। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে তা মানছেন না। ফলে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না।
কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জায়গাটি বন্দোবস্ত হয়ে গেলে সেখানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।’
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরের আগে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও জেলখানা-সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি স্থানেই বালু ফেলে ময়লা আড়াল করা হয়। পরে ময়লা না ফেলতে দুটি স্থানেই সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলখানা-সংলগ্ন স্থানে বর্তমানে কোনো ময়লা ফেলা হচ্ছে না। তবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন স্থানে সাইনবোর্ডের নিচেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পৌর প্রশাসককে আবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধে শুধু সাইনবোর্ড টাঙালেই হবে না, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য দ্রুত নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন