
আবু বকর সিদ্দিক,
স্টাফ রিপোর্টার।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জুনায়েদের বাবা ও তাঁর সহযোগীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, চেয়ারম্যানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে শহীদ জুনায়েদের কবরে ককটেল বিস্ফোরণের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তাঁর পরিবার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর, ও ইউপি সদস্যরা, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় বসেছিলেন।
বৈঠক চলাকালে হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে ৫-৬ জন ব্যক্তি এসে পরিষদ কার্যালয়ে অতর্কিত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও ককটেলসহ ইউপি কার্যালয়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় চা বিক্রেতা খলিল সিকদার জানান, “হঠাৎ কিছু লোক এসে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায়। বিকট শব্দে ককটেল ফুটলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ আত্মরক্ষার্থে ছোটাছুটি শুরু করে। হামলায় একজন ককটেলের আঘাতে এবং দুজন দেশীয় অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াজউদ্দিন বেপারী বলেন, “ককটেলের বিকট শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, হামলাকারীরা তাদের বাড়ির দিকে চলে যাচ্ছে। আমাদের এগিয়ে আসতে দেখে তারা হুমকি দিয়ে বলে— ‘কেউ সামনে এগোবি না, আমরা ফরাজীরা’ সামনে এলে মেরে ফেলব’।
এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জুলাই শহীদ জুনায়েদের মা ডলি আক্তার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবরের নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার ছেলের কবর ককটেল বিস্ফোরণ করে।”
শহীদ পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও কবরে হামলার বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন,
“সরকারের কর্মসূচি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউপি ভবনে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চলছিল। সে সময় হঠাৎ দুর্বৃত্তরা ককটেল হামলা চালায়। ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সকলে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শহীদ জুনায়েদের কবরে হামলা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই হামলা ফরাজিরা কেন করেছে, তা আমাদের জানা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার, স্থানীয় বিএনপি নেতা, উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নেতা ও রাজনগর ইউনিয় ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ জনগণকে নিয়ে আমার বৈঠক চলছিল। হঠাৎ অতর্কিত হামলায় আমাদের তিনজন লোক আহত হয়। আমরা তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, আমরা কারও ওপর হামলা চালাইনি।”
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার মুখ্য সমন্বয়ক ইমরান আল নাজির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একটি স্বার্থান্বেষী মহল জুলাই শহীদদের স্মৃতিকে পুঁজি করে এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তানভীর হোসেন জানান, “রাজনগরে দুটি পৃথক সহিংসতার ঘটনায় নড়িয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”