জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্কুল থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম (৭) নামে এক শিশুর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার সন্দেহে জামিনুর ইসলাম (৩২) ও তার স্ত্রী সবুজা (২৫)কে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে উপজেলার শিধুলি ইউনিয়নের চরলোটাবর এলাকায় জামিনুর ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় আটক জামিনুর ইসলাম চরলোটাবর এলাকার মৃত আলতাবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জামিনুর ইসলামকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন দিন আগে স্কুলে যাওয়ার পর চরলোটাবর এলাকার সিধুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মরিয়ম। সে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে রোববার রাতে জামিনুর ইসলামের বাড়িতে মাটিচাপা অবস্থায় শিশুটির মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর বাবা বাহাদুর মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে জীবিত ফিরে পাইনি। এখন তার মরদেহ পেয়েছি। আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করে যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, নিখোঁজের তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




