বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

সাতক্ষীরায় নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে পালন করতে হয় দলিত জনগোষ্ঠীর বড় ধর্মীয় উৎসব

খবরের আলো :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: বাংলাদেশের দলিত জনগোষ্ঠী ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবগুলোকে নিজেদের উৎসব হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যদিও নিরাপত্তার কারণে বৃহৎ আকারের সার্বজনীন ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে দিয়েই সম্পন্ন করতে হয়।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বরাত গ্রামের মানবাধিকার কর্মী চায়না দাস জানান, হিন্দু জনগোষ্ঠী থেকে পিছিয়ে পড়া একটি শ্রেণীর নাম দলিত। তাই হিন্দুদের উদযাপিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো একইসাথে একইভাবে দলিতরা পালন করে থাকে। সে ক্ষেত্রে শারদীয় দুর্গাৎসবই দলিতদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ ছাড়া শ্যামা, কালী পুজা, জগদ্ধাত্রী পুজা, সরস্বতী পুজা, ব্রহ্মা পুজা, বনবিবি পুজা, বাসী পুজা, লক্ষী পুজা, চড়ক পুজা সবিই সবিই তারা পালন কর থাকেন। এক সময় দলিত জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন বা অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। কালের বিবর্তন সে অবস্হা ক্রমশঃ পরিবর্তিত হচ্ছে। দলিত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়াসহ সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিতে দলিতদের অংশ গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় হিন্দু সমাজ তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি পুজা পার্বন বৈষম্যের স্বীকার হলে দলিতদের প্রতিবাদ উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের আচরণ কিছুটা হলেও নমনীয় হতে হচ্ছে।
চায়না দাস আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ও দেশ স্বাধীন পরবর্তী বাংলাদেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে সাথে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও ক্রমশঃ কমতে শুরু করে। বর্তমান এ দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বলে সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়। যদিও বাস্তবে তার সংখ্যা অনেক কম। ভোটার তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা কেটে ছিড়ে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা, শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তির নামে জমি জবরদখল, নিরাপত্তার অভাব, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, ন্যায় বিচার না পাওয়া, ধর্মকরণসহ বিভিন্ন কারণ হিদু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্রমশঃ দেশ ত্যাগ করায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বা দলিত জনগোষ্ঠী বর্জিত একটি দেশ পরিণত হবে। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের কাল্পনিক ধুয়া তুলে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাঠ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো এতটাই হৃদয় বিদারক যে হিন্দুরা এ দেশ বসবাসের মানসিকতা হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এ সব অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনায় যখন রাজাকার আলবদরের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা অংশ নেন তখন কথা বলার মত ভাষা হারিয়ে ফেলতে হয়। চাঞ্চল্যকর এসব ঘটনায় যখন থানায় মামলা হয় সেখান রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অব্যহতি পাওয়া নেতাদের আরো বেশি অত্যাচারি হতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি গৌর পদ দাস বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিএনপি-জামায়ত সমর্থিত চার দলীয় জোট, আাওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট বাংলাদেশর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এদেশের গণতন্ত্রের মুল স্তম্ভো ধর্মনিরপক্ষতা তুলে দিয়ে সংবিধান কাটা ছেড়া করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদীয় নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাবে বলে ঘোষণা দেয়। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পরবর্তী ২০১৪ সালে আরো একবার মহাজোট ক্ষমতায় গেলেও বাংলাদেশর  সংবিধান ধর্মনিরপক্ষতা শব্দটি স্হান পায়নি। হয়তো বা মুসলিম মৌলবাদিদের ভোট হারানোর ভয়ে সে কাজটি করতে পারেননি সরকার প্রধান।
বাংলাদশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য গৌষ্ট বিহারী মণ্ডল বলেন, এদেশের দলিত তথা সংখ্যালঘুরা ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায় তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটপাঠ, জবরদখল, হামলা, মামলা অব্যহত রয়েছে। কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ মধুসুধনপুর চমুহুনীর দলিত জনগোষ্ঠীর সদস্য নীলু সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের জমি জবরদখল করতে আওয়ামী লীগ নেতা ও মানবাধিকার কর্মী মোসলম আলী হত্যাকাণ্ডের নায়ক শ্রীরামপুর গ্রামের গহর আলী মোড়লর ছেলে বিএনপি কর্মী রহুল আমিন মোড়ল ও তার সন্রাসী বাহিনী যেভাবে পরিকল্পিত মামলা দিয়ে পুলিশের সহায়তায় তাদের হয়রানি করেছে তা নজির বিহীন। তাছাড়া এ জেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্ক ভাল ভূমিকা না রেখে নির্যাতনকারিদের দারা প্রভাবিত হওয়ায় সংখ্যালঘুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়াও সংখ্যালঘুদের দায়েরকৃত মামলা ও অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত না করে বা প্রভাবিত হয়ে তদন্ত করায় অনেকাংশ ন্যায় বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার প্রশাসনের সহযোগিতা পেতে উৎকোচ দিতে দিতে নিঃস্ব হতে হচ্ছে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন সময় বৈঠক করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি যথাযথভাবে পালনের নিশ্চয়তা দিলেও মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের মত ঘটনা ঘটছেই।    মনষা পুজা উপলক্ষে শহরের গুড়পুকুর মেলায় বোমা হামলা, কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহ   সহিংসতা, শহরের ঝুটিতলায় নামযজ্ঞ চলাকালে হামলা, দেবহাটার সুবর্ণাবাদ কালি প্রতিমা ভাঙচুর, সদরের বাবুলিয়া, আশাশুনির কচুয়া ও কল্যাণপুর দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর, সর্বপরি ঝাউডাঙার ওয়ারিয়া গ্রামে রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রতিমায় অগ্নিসংযোগসহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা শাস্তি না পাওয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে পালন করতে তারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com