রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৪ অপরাহ্ন

শ্যামনগরে মুক্তিযোদ্ধা জি,এম নূরুল হকের সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

খবরের আলো :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মরণীয় রাতের ঘটনা দেশবাসীকে জানাতে শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মলন করছেন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জি,এম নূরুল হক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর এম,এ জলিল ভারতের বসিরহাট মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প সৈনিকদের নিয়ে ট্রনিং করার মাঝামাঝি সময়ে সিদ্ধান্ত নেন ভারত সীমান্ত পার হয়ে প্রথম তিনি বাংলাদেশের খুলনা জেলার পাক সেনাদের ক্যাম্প আক্রমণ করবেন। সে মোতাবেক ১৯৭১ সালের ৬ই মে অস্ত্র বোঝাই ২টি লঞ্চ নিয়ে মেজর এম এ জলিল তার সাথীদের নিয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে খুলনাকে পাক সেনাদের হাত থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্য রওনা দেন। এসময় লঞ্চ দু’টিতে মেজর জলিলর সাথে সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জু, মেজর জিয়া উদ্দীন (জিয়া), গেরিলা বাহিনী প্রধান ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগ, লেফট্যান্ট মইনুল ইসলাম, লেফট্যান্ট তোফাজ্জেল হক, ক্যাপ্টেন বাসার, সুবিদার সেলিম এবং তথ্য সরবরাহকারী জি.এম নূরুল হক নিজসহ প্রায় ৫০ জনের মত মুক্তিযোদ্ধা। লঞ্চ দু’টিতে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যর বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কিন্তু লঞ্চ দু’টি শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীতে পৌঁছালে পাকসেনারা বিধ্বস্ত করে দেয়। 
তিনি বলেন, মেজর জলিল অস্ত্র বোঝাই দু’টি লঞ্চ নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ আসছে এই খবর জানতে পেরে গাবুরার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি খুলনার পাক সেনাদের ক্যাম্পে সংবাদ পৌঁছে দেয়। খবর পেয়ে পাক সেনারা দু’টি গানবোর্ড নিয়ে ১৯৭১ সালের ৬ই মে বেলা ১০ টারা দিকে গাবুরার দক্ষিণে খোলপেটুয়া নদীতে অবস্হান নয়। পাকসেনারা সন্ধ্যায় গান বোর্ডের আলো নিভিয়ে মেজর এম.এ জলিলের অস্ত্র বোঝাই লঞ্চ দু’টির জন্য অপেক্ষা করছিলো। অস্ত্র বোঝাই লঞ্চ দু’টি রাত একটার দিকে গাবুরার চাঁদনীমুখা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীতে পৌছালেই পাকসেনারা গানবোর্ড থেকে আক্রমণ শুরু করে। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের লঞ্চ দু’টি  চাঁদনীমুখা গ্রামের ওয়াবদার গেট লাগিয়ে দিয় তারা ডাঙ্গায় উঠে বেড়িবাঁধের আড়াল থেকে পাকসেনাদের উপর পাল্টা আঘাত হানে। পাকসেনা ও মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে সারারাত সম্মুখে যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ চলাকালিন পাক সেনাদের সেলিংয়ের গুলিতে অস্ত্র বোঝাই লঞ্চ দু’টিতে আগুন ধরে নদীর কিনারায় অর্ধ ডুবা অবস্হায় থাকে। পরদিন ভোর হওয়ার আগেই মেজর. জলিল তার সাথী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শ্যামনগরের কৈখালীর কালিদী নদী পার হয়ে ভারতের বসিরহাট নিজ ক্যাম্প চলে যান।
মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক আরো বলেন, বীরত্বপূর্ণ এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ৪/৫ জন্য সামান্য আহত হয়ছিলেন। পাকসেনারা সকাল ৮ থেকে ১০ টা পর্যন্ত গান বোর্ড হতে অনর্গল সেলিং চালাতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উত্তর না পেয়ে তারা গানবোর্ড নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং নদীর ধার অর্ধডোবা লঞ্চ হতে ৪/৫ হাজাররও বেশি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে খুলনায় চলে যায়। পরে যুদ্ধের ঘটনাস্থল হতে ৪/৫ শতাধিক হাতিয়ার উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে এনে মাটিতে পুঁতে রেখে তিনি আত্মগোপন করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৫ই জুন ভারতের বসিরহাট ট্রেনিং ক্যাম্প চলে যান। ৪/৫ দিন পর মেজর এম.এ জলিলও  তিনি (নুরুল হক)সহ ১০/১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা স্প্রীডবোর্ডসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুতে রাখা অস্ত্রপাতি উদ্ধার করে ফের ভারতের ক্যাম্প চলে যান। চাঁদনীমুখা গ্রামের  জি.এম আতিয়ার রহমান, জি এম লুৎফর রহমান গাজী, গাগমারি গ্রামের মোঃ সামছুর রহমান জোর্দ্দার, নাপিতখালী গ্রামের মোঃ সাহাজুদ্দিন মোড়ল সেদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করছিলো। তাদের ভয়ে দাপটে এখনও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি নিজেও তাদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত। তারা আজও মুক্তিযোদ্ধাদের হক নষ্ট করে গায়ের জোরে প্রচন্ড দাপটে স্বীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি এদের বিরুদ্ধে যাতে আইনগত ও আদালতের সহযোগিতা পেতে পারেন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com