শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

সংসদীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহে সাতক্ষীরায় ২০০০ সাংবাদিকের আবেদন,উদ্বিগ্ন সিনিয়র সাংবাদিকরা

খবরের আলো  :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনমুতি চেয়ে আবেদন করেছেন দুই হাজারের বেশি সাংবাদিক। এদের মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক। তবে অনুমতি না পাওয়া সাংবাদিকদের অনেকই জেলা কালেক্টরেট অফিসের তয় তলার জে এম শাখার সামনে শনিবার দুপুরেও ধর্ণা দিচ্ছেন।
এদিকে সাতক্ষীরার ইতিহাসে এত বেশি সাংবাদিক জানতে পেরে রীতিমত চমকে উঠেছেন সাতক্ষীরার কয়েকজন প্রবীন সাংবদিক।
সাতক্ষীরা জেলা রিটার্ণিং অফিসারের জে এম শাখার জুডিশিয়াল পেশকার মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা ও টেলিভিশনের বেশ কয়েকজন বাঘা বাঘা সাংবাদিক। ২৪ ডিসেম্বর থেকে তারা আবেদন করছেন ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের তথ্য সংগ্রহর জন্য। এ ছাড়াও আবেদন করছেন সাতটি উপজেলার প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব ও আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। এ ছাড়া রয়েছে রিপোর্টার্স ক্লাব, রিপোটার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতি, সাংবাদিক সংস্থা, সাংবাদিক ক্লাব, নিউজ ক্লাব, অনলাইন প্রেসক্লাব, অনলাইন টিভি ও অন লাইন নিউজ পোর্টাল। আবেদন করেছেন এমন কয়েকজন সাংবাদিক যেসব টেলিভিশন অন ইয়ার হয়নি।
সাতক্ষীরার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জানান, বেশ কয়েকজন লোক যাদের সাংবাদিক পরিচয় ৩০ ডিসেম্বরের পাস নেওয়ার জন্য রিটাণিং অফিসারের অফিস কক্ষের বারান্দায় ধর্না দিতে দেখছি তাদের অনেকেই জামায়াত শিবিরের লোক। যারা পিঠ বাঁচাতে বিভিন্ন পত্রিকার কার্ড কিনেছেন। আবার ঢাকার যেসব পত্রিকার পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে আবেদন করেছেন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানে রয়েছে লাকড়ির কারখানা। তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে কেনা এসব কার্ড নেওয়া হয়েছে কিছু অখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক এর কাছ থেকে। এদের মধ্যে কারো কারো নামে দু’ থেকে তিনটি নাশকতার মামলা রয়েছে।
এদিক নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহের কথা বলে এত সাংবাদিকের কিভাবে উত্থান হলো তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাড আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন জেলায় হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিক যারা প্রতিদিনই কঠোর পরিশ্রম করে এ পেশাকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করছেন তারাই ওইসব অপরিচিত সাংবাদিকদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসছে।
সাতক্ষীরা জেলা রিটার্ণিং অফিসারের কার্যালয়ের তয় তলার জে এম শাখার বারান্দায় শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সরজমিনে থেকে দেখা গেছে অখ্যাত ওই সব সাংবাদিকদের ভিড়ে দোম বন্ধ হয়ে আসছে। বারান্দায় পা রাখার জায়গা নেই। তাদের অনেকেই সাংবাদিকতা করেন না। অথ্যাত টিভি, অখ্যাত অনলাইন, ভুয়া ও দেয়াল সাটা আন্ডার গ্রাউন্ডের কার্ড কিনে বা যোগাড় করে তারা পাস যোগাড় করার চেষ্টা করছেন। এদের মধ্যে জামায়াতের কয়েকজন সাংবাদিক যারা ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর, ২০১২ সালের কালিগঞ্জর ফতেপুর ও চাকদাহ সহিংসতা, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও তৎপরবর্তী সাতক্ষীরাকে অশান্ত করতে ভুমিকা রাখছিল, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী দেশে নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টি করেছিলো তারা হঠাৎ খোলস পাল্টে সাংবাদিক সেজে রিটার্ণিং অফিসারের বারান্দায়।
কথা বলতেই দু’জন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক এ প্রতিবেদককে জানান, ওইসব সাংবাদিক যদি পরিচয়পত্র পায় সেক্ষেত্রে নির্বাচন পরিস্থিতি বিতর্কিত করার জন্য অন্য কারো দরকার হবে না। প্রশাসনের উচিত ছিল যথেষ্ট যাচাই ও বাছাই করে পাশ ও গাড়ির স্টিকার দেওয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় জানান, ২ হাজার এর বেশি আবদনপত্র পেয়েছেন তিনি। তবে দু’দিনে অনুমতি পেয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক। তবে এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com