শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল চলবে রিমোটে

খবরের আলো :

 

লালবাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামাতে হবে। সবুজবাতি জ্বললে গাড়ি চলবে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি বেশ জোরেশোরে নতুন করে বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৯ সালে। তবে রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়ায় এই পদ্ধতি তেমন কোনো কাজে আসেনি। বরং এখন সিগন্যালে লালবাতি জ্বলা অবস্থায়ও গাড়ি চলে। আর সবুজবাতি জ্বলা অবস্থায় সড়কে গাড়ি থেমে থাকে। এর প্রধান কারণ হলো, গাড়ির চাপে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিকরা হাতের ইশারায় প্রয়োজন অনুসারে যান নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তবে এবার এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। এখন ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ‘রিমোট কন্ট্রোলিংয়’ এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে সড়কের সিগন্যাল বাতি। এখন সড়কে গাড়ির চাপ অনুযায়ী রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে লাল ও সবুজবাতি জ্বালাতে পারবেন ট্রাফিক পুলিশ। হাত উঠিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করার দৃশ্য আর চোখে পড়বে না। সে লক্ষ্যে যৌথভাবে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। আর এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন (কেইস) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বাংলামোটর ট্রাফিক সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে রিমোট কন্ট্রোলিং সিগন্যাল সিস্টেম চালু করার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় বিদ্যমান ৭৭টি ট্রাফিক সিগন্যাল রিমোট কন্ট্রোলিং সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এজন্য ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৪টি রিমোট ক্রয় করা হয়েছে। সেসব রিমোট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কেইস প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি অর্থায়নে ডিইউটিপি প্রকল্পের আওতায় ২০০১-২০০২ সালের মধ্যে রাজধানীতে ৭০টি ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এসব ট্রাফিক সিগন্যালে বাতির নির্দেশনা অনুসরণ করে গাড়ি চলাচল করত। এরপর শহরে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ ম্যানুয়াল সিস্টেমে ফিরে আসে। এরপর কেইস প্রকল্পের আওতায় ২০০৯-২০১৬ সালের মধ্যে আরো ২৯টি সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে মগবাজার ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের কারণে ৮টি, মেট্রোরেলের কারণে ১২টি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ইউলুপ প্রকল্পের কারণে দুইটি এবং ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন কাজের কারণে ৪টি ট্রাফিক সিগন্যাল পোস্ট অপসারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেইস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী তৌহিদ ইবনে আকরাম বলেন, হাত দিয়ে ট্রাফিক সিনগ্যাল কন্ট্রোলিং খুবই দৃষ্টিকটু। তাছাড়া বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিদেশিরা এদেশে এসে হাত ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ দেখে অবাক হন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই নতুন প্রযুক্তি যানজট নিরসনে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না। যানজট নিরসন বা নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। সেটা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকার বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামসুল হক বলেন, ঢাকা শহরে অটোমেশন সিস্টেমের ট্রাফিক সিগনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। সে কারণে সেই উদ্যোগ সফলতা পায়নি। এ ঘটনার পর বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিরা আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি। পরে আমি তাদের ট্রাফিক সিগন্যালে রিমোট কন্ট্রোলিং সিস্টেমে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যালে সবুজবাতি জ্বলার পরও পুলিশ হাত দিয়ে গাড়ি আটকে দেয়। আবার লালবাতি জ¦লার পরও হাত দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়। এর কারণে হচ্ছে অটোমেশন সিস্টেম। সড়কের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বাতি জ্বালানো সম্ভব হয় না। নির্ধারিত সময় পর পর লাল বা সবুজবাতি জ্বলে। কিন্তু কোনো সড়কে বিশেষ যানজট থাকলে তখন সবুজ বা লালবাতি জ্বললেও পুলিশ সেটা নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করে। এটা এখন অবৈধ পদ্ধতি। তিনি আরো বলেন, পিক আওয়ারে অটোমেশন সিস্টেমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এজন্য সে সময় ম্যানুয়াল সিস্টেমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করবে। আর সেটা হবে রিমোট কন্ট্রোলিংয়ে। এতে নির্ধারিত সিগন্যালে দায়িত্বরত পুলিশ নিজেদের ইচ্ছামতো লাল বা সবুজবাতি জ্বালাতে পারবেন। এটা হলে জনগণের লাল বা সবুজ বাতির প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অফ পিক আওয়ারে অটোমেশন সিস্টেমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হবে। তখন অটোমেশন পদ্ধতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এ অবস্থায়ও যদি কখনো রিমোট কন্ট্রোলিং ব্যবহার প্রয়োজন পড়ে, পুলিশ সেটা করতে পারবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত তিন বছর আগে রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন করা হয়েছিল। শহরের অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে পিক আওয়ারে অটোমেশন কাজ করানো যায় না। বাধ্য হয়ে সে সময় হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এ সময় লালবাতি জ্বলে থাকলেও হাতের ইশারায় গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়। রিমোট কন্ট্রোলিং সিস্টেম চালু হলে পিক আওয়ারে রিমোট কন্ট্রোলিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আর অফ পিক আওয়ারে অটোমেশনের মাধ্যমে ট্রাফিক সিগনাল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে ট্রাফিক সিগন্যালে লাল জ্বললে গাড়ি বন্ধ থাকবে এবং সবুজবাতি জ্বললে গাড়ি চলতে থাকবে; এখন আর এর ব্যতয় ঘটবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com