বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন, পাট থেকে চারকোলের মতো বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বুধবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতররে বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাক্সারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যাতে কৃষকরা পাট উৎপাদন করে আগের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে। ফলে দিন দিন পাট চাষ ও উৎপাদনে কৃষক আগ্রহী হচ্ছে। চারকোল উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার। পাট থেকে এধরনের যত বেশি বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে তত দ্রুত সোনালী আশেঁর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় জানানো হয়, দেশে প্রথম ২০১২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছরই সর্বপ্রথম চীনে এ পণ্য রফতানি করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকলের চাহিদা রয়েছে। দেশে এ পণ্য উৎপাদনের ব্যাপ্তি বাড়লে আগামীতে জাপান, ব্রাজিল, তুর্কিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র,দক্ষিণ করিয়া, তাইওয়ান, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকল রফতানি সম্ভব হবে।

বর্তমানে বিদেশে চারকোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে, ফেস ওয়াস, ফটোকপিয়ারের কালি, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কার করার ওষুধ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে এ কার্বন ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ থেকে ১২টি চারকোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দেশে জামালপুর, নারায়নগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে বাণিজ্যিকভাবে চারকোল উৎপাদন শুরু হয়েছে।

চারকোল ম্যানুফ্যাক্সারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চারকোলের এ সম্ভাবনার কথা উপস্থাপন করা হয়।

সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ টন পাটকাঠি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে যদি ৫০ ভাগ পাটকাঠি চারকোল উৎপাদনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন চারকল উৎপাদন সম্ভব হবে। যা বিদেশে রফতানি করে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চারকোল ম্যানুফ্যাক্সারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চারকোল শিল্পকে একটি উদীয়মান শিল্প হিসাবে ঘোষণা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও পাটজাত পণ্য হিসাবে ২০ ভাগ ক্যাশ ইনসেনন্টিভ পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বানসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

মন্ত্রী এসব প্রস্তাব ও পরামর্শ সম্পর্কে বলেন, নতুন এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা করবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চারকল শিল্পের বিকাশের জন্য সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা চান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com