মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

শতবর্ষে পটুয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পালনে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ

All-focus

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুর রহমান মাসুদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে বহু নদ-নদী ও খাল-বিল নিয়ে গড়ে ওঠা পটুয়াখালী জেলা শহরে মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালিত হতে যাচ্ছে ১৮ জানুয়ারী। এ উৎসব সফল করার লক্ষ্যে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ এর আহবায়ক এ বিদ্যালয়েরই ছাত্রী, শিক্ষক এবং জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি নার্গিস আরা হক এর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় দিন-রাত কাজ করছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন একজাঁক ছাত্রী।
১৮ জানুয়ারী সকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করবেন জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপি সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ¦ এ্যাডভোট মোঃ শাহজাহান মিয়া। বেলা ১১টায় শতবর্ষ আনন্দ শোভাযাত্রা। বিকাল ৩টায় প্রাক্তন শিক্ষক সম্মাননা ও সাবেক ছাত্রীদের স্মৃতি কথন, সন্ধ্যা ৬টায় পটুয়াখালীস্থ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, রাত ৮টায় অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহনে সংগীত সন্ধ্যা। দ্বিতীয় দিন ১৯ জানুয়ারী সনিবার সকাল ১০টায় সাবেক ও বর্তমান ছাত্রীদের অংশগ্রহনে খেলা-ধূলা, বেলা সাড়ে ১২টায় র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান, বিকাল ৩টায় সাবেক ছাত্রীদের স্মৃতি কথন, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকাস্থ সাবেক ছাত্রীদের কন্যা সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, সন্ধ্যা ৭টায় অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহনে সংগীত সন্ধ্যা, রাত ১০টায় আতশবাজী প্রজ্জ্বলনের সাথে দ্বিতীয় দিনের সমাপনী। পরের দিন ১৯ জানুয়ারী রবিবার সকলে সাবেক ছাত্রীদের (যারা পেশায় ডাক্তা) সৌজন্যে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, বেলা দেড়টায় তিনদিনব্যাপী শতবর্ষ মিলন মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষনা করবেন শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ এর আহবায়ক এ বিদ্যালয়েরই ছাত্রী, শিক্ষক এবং জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি নার্গিস আরা হক।
প্রকাশ, ১৮৭২ সালে পটুয়াখালী শহরটি মহকুমা শহরের স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৬৯ সনের ১জানুয়ারী জেলা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। শহরটি মহকুমায় স্বীকৃতি হওয়ায় শহরের চারদিক থেকে শত শত মানুষ ছুটে এসে স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে বসবাস শুরু করে। ১৯১৬ সালে তৎকালিন মহকুমা হাকিম আবদুল লতিফ সাহেব শিক্ষা বিস্তারে তারই নামানুসারে লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমানে লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী নামে পরিচিতি লাভ করে। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পটুয়াখালীতে নারী শিক্ষা বিস্তারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনে গুরুত্বারোপ করায় তৎকালিন সময় পটুয়াখালীর অনারারী ম্যাজিস্টেট সুবিদখালীর জমিদার বংশের সন্তান বাবু অন্নদা চরন দে সরকার নারী শিক্ষা বিস্তারে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শহরের প্রান কেন্দ্রে ১৯১৯ সালে প্রায় ৩ একর জমি দান করেন এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি তহবিল গঠন করেন। বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর তার একমাত্র ভগিনী কালিতারা সরকার অল্প বয়সে বিধবা হলে তিনি দু:খে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। ভগিনীর নামানুসারে বিদ্যালয়টির নাম করা হয় কালিতারা বালিকা বিদ্যালয়। এই কালিতারা বিদ্যালয়টি প্রথমে পাঠশালা, পরে মধ্য বাংলা, তারপরে ইংরেজী বালিকা বিদ্যালয় হিসাবে কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৬ সালে কালিতারা বিদ্যালয়টি উচ্চ ইংরেজী বালিকা বিদ্যালয় রূপে সরকারের স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য তৎকালিন মহকুমা অফিসার মিঃ ফয়জুল হক সাহেব এর সভাপতিত্বে সাত সদস্য বিশিস্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি মিস নিবেদিতা সেনগুপ্তকে অস্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগদান করে বিদ্যালয়ের কাজ শুরু করেন। তখন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৭জন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পটভ’মিতে হিন্দু শিক্ষকদের অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে যান। ফলে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে বিদ্যালয়টি। এ বিলুপ্ত প্রায় বিদ্যালয়টির হাল ধরলেন তৎসময়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবী নেতা শ্রী সতীনাথ সেনের জ্যাঠাতো ভাই বাবু হেমচন্দ্র সেন। ছাত্রীদের প্রতি তার প্রভাব ছিল অসাধারন। তার নির্দেশ ও পরিচালনায় দিন দিন বিদ্যালয়টি উন্নত হতে থাকে। বিদ্যালয়টি এগিয়ে নিতে ছায়ার মতো তাকে অনুসরন করতেন তার দুই মেয়ে রমা সেন ও কল্যানি সেন এবং ভাইয়ের মেয়ে বীনা সেন। প্রধান শিক্ষক শ্রী হেমচন্দ্র সেনের মৃত্যুর পর প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেন আলী আকবর সাহেব। তার সুযোগ্য পরিচালনায় দশ বছরে বিদ্যালয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক উন্নয়ন হয়। আলী আকবর সাহেব পটুয়াখালী মহিলা কলেজে চলে গেলে জহিরুল হক সাহেব কিছুদিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সনে সরকার বিদ্যালয়টিকে পরিচালনায় নিয়ে নেন। ফলে কালিতারা উচ্চ ইংরেজী বালিকা বিদ্যালয়টি পটুয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নাম করন করা হয়। জহিরুল হক সাহেব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে শ্রীমতি সুরুচি পাল প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৭২ সালে মানিকুর রহমান এবং ১৯৭৩ সালে মিসেস ফিরোজী সুলতানাপ্রধান শিক্ষক হিসাবে ৬বছর দায়িত্ব পালন করে অন্যত্র বদলি হলে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মিসেস নার্গিস আরা হক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে সুখ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে মিসেস ফিরোজী সুলতানা পুনরায় প্রধান শিক্ষক হন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়টির ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে দুই শিফটে ১৮০০ ছাত্রী রয়েছে।
পটুয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ৯ জন ছাত্র, ১৯০০ জন ছাত্রী এবং বর্তমান ১৩০০ জন ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য প্রাক্তন ছাত্রী মারুফা মনি জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com