শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মানিকগঞ্জে যুবলীগ নেতা সুমনের ব্যবস্থাপনায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ইদ বস্ত্র বিতরণ কোভিড যুদ্ধে এবার রণাঙ্গনে বিরুস্কা শ্রীপুরে ককটেল রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী তিন যুবক ও এক নারী আটক মানিকগঞ্জে বোরো ধানকাটার উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক অসহায় মানুষের পাশে ঈদ উপহার নিয়ে দাড়াল সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সুমন বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে দুই ছেলের অমানবিক নির্যাতন! বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ রীতি ভেঙে স্বামীকে মঙ্গলসূত্র পরিয়ে বিয়ে, অতঃপর..! ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য- সংশয় কাটেনি সন্দ্বীপবাসীর রাশিয়ার সেই এক ডোজের টিকা উৎপাদন হবে ভারতে

গাজীপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

খবরের আলো  :

মোঃ আমিনুর ইসলাম, গাজীপুর জেলা সংবাদদাতাঃগাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলার ডিটেকটিভ বাঞ্চের (ডিবি) সদস্যরা। তাদের জবানবন্দীতে শীর্ষ কয়েকজন মাদক কারবারির নাম ওঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ডিবির মাদক বিরোধী বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া বড়চালা পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. আমান উল্লাহ (৩২), বড়চালা মালিপাড়া এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) ও রাজাবাড়ির গজারিয়া এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৩)।
তাদের তল্লাশি করে ১৩০ পিস ইয়াবা বড়ি ও বিক্রির ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকা পেয়েছে বলে দাবি করছে ডিবি পুলিশ।
তবে আসামিদের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মাদক ছিল না। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রের তথ্যমতে, তারা সবাই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি।
মোঃ আমান উল্লাহ’র ভাষ্য, তিনি ৬ মাস ধরে মাদক ব্যবসায় যুক্ত। আগে তিনি র‌্যাবের হাতে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে তিনমাস জেল খেটেছেন। পেশায় তিনি বাস চালক। তার দাবি, তিনি মাদক কারবারে যুক্ত নন। প্রতিদিন ২-৩টি ইয়াবা বড়ি কিনে সেবন করেন।
পরক্ষণেই কথা পাল্টে জানান, বড়চালার এক পাইকারি মাদক কারবারির কাছ থেকে তিনি ১০০-২০০ পিস ইয়াবা ২০০-২৫০ টাকা দরে কিনে ব্যবসা করতেন। বেশির ভাগ সময় বামনগাঁওয়ের জুয়েলের কাছ থেকে তিনি ইয়াবা কিনেন। তিনি জানান, তাকে টয়লেট থেকে ধরেছে ডিবি পুলিশ। তবে সঙ্গে বা ঘরে কোনো ধরনের মাদক পায়নি।
আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, তিনি সকালে ঘুম থেকে ওঠে দাঁত ব্রাশ করার সময় ডিবি ধরেছে। সঙ্গে কোনো ধরনের মাদক পায়নি। আগে তিনি টমটম (ইঞ্জিন চালিত গাড়ি) চালাতেন। বর্তমানে রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেন। পুলিশের দাবি, তিনি গ্রেপ্তারের দিন আমান উল্লাহ’র কাছ থেকে ২০০ টাকা দরে ১০০ পিস ইয়াবা বড়ি কিনেছেন। তবে তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ৫ পিস ইয়াবা বড়ি ২০০ টাকা দরে কিনেছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, তাকে ধলাদিয়া-রাজাবাড়ি এলাকার ডার্ড গার্মেন্টের সামনে থেকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে। তবে সঙ্গে কোনো মাদক পায়নি। তিনি শ্রীপুর থানার একটি মাদক মামলায় দুই মাস জেলে ছিলেন। কাপাসিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মাদকের, একটি পারিবারিক মামলা রয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, তারা খুচরা মাদক কারবারি বা সেবী। তবে বড় মাদক ব্যবসায়ী ধলাদিয়ার ওয়াকিল। এসিআই গেইট এলাকার মিলন ও তার দুই স্ত্রী। পাবুর রাস্তা এলাকার রাজ্জাক ঘরজামাই থেকে মাদক ব্যবসা করেন বলে তারা জানিয়েছেন। তার পাবুর রাস্তায় আসবাবপত্রের দোকান রয়েছে। তিনি পুলিশের সোর্স হয়ে মাদক ছাড়াও নিরীহ মানুষ ধরা-ছাড়ার বাণিজ্য করেন।
তারা ছাড়াও রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিনাশুখানিয়ার বাসিন্দা ফারুকের প্রতিবেশী সজীব মাদকের ‘গডফাদার’। তিনি দুই বছর আগে নিজের মাকেও খুন করেছেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
দিঘিরচালা, নলগাঁও, নারায়নপুর, গোসিঙ্গা, মিডালু ও জয়নারায়নপুর এলাকাসহ আশপাশ এলাকার মাদকের নিয়ন্ত্রক সজিব। তিনি পাবইরের চালা এলাকার এক মুক্তিযোদ্ধার ভাতিজা।
ডিবির এসআই সারোয়ার ও এএসআই মোকলেস জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালিয়েছেন। খবর ছিল আমান উল্লাহ’র কাছে প্রচুর মাদক রয়েছে। রাতভর অপেক্ষা করে ভোরে তাদের ধরা হয়েছে। আটকের পর শ্রীপুর থানায় মাদক মামলা (নম্বর ৪৪) রুজুর পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে ইয়াবার একটি বড় চালান আসছিল। পথে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করে র‌্যাব। এসময় এক নারীসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের প্রত্যেকের বাড়ি গাজীপুরে। অভিযানের সময় গাজীপুরের একজন শীর্ষ মাদক কারবারি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা [নম্বর ৪৮(৯)২০১৮] হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com