শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরায় ‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

খবরের আলো :

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ:বাংলাদেশ আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে দেশে মোট আত্মহননকারীর সংখ্যা ছিলো ১০ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৮ তে তা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার। অপরদিকে সাতক্ষীরায় বছরে গড়ে ২৯০ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জাপানে এক সময় আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি থাকলেও এখন তা কমে এসেছে। অথচ আমাদের দেশে নানা সামাজিক কারণ এই প্রবণতা বেড়েই চলছে।
সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আত্মহত্যা বিষয়ক এক কর্মশালায় এই তথ্য প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী। বাংলাদশ পুলিশ এবং ইউনিসেফের জরিপ এই তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন এ অবস্থা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। আর এজন্য নিতে হবে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ। তিনি বলেন কেন এতো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে উদ্যাগী হতে হবে। এদিকে কর্মশালায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান সাতক্ষীরা জেলায় ২০১৮ সালে ২৭৪ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩০৬ জন। এই হিসাবে এই জেলায় বছরে গড়ে ২৯০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান এই সংখ্যা বার্ষিক ১৭২ জন বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক যুগান্তরের  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী। এতে আরও বক্তব্যে রাখেন তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিন্দিতা রায়, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল খালেক, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী, আত্মহননকারী অনীকের মা প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপি, অধ্যাপক শফিক আহমেদ পরাগ প্রমুখ। কর্মশালায় জেলায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা অংশ গ্রহন করেন।
কর্মশালায় বলা হয় কেনো এতো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছ তা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিভাবকের আচরন, শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম, লিঙ্গ বৈষম্য, সামাজিক অবক্ষয় নাকি অন্য কিছু তা তলিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয় এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে হবে। আমাদের শিশুরা নানা কারণ বিষণ্নতা ও আশাহীনতায় ভাগ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় শিশু কিশোররা মাদকের দিকে ঝুঁকছে কিনা তা দেখত হবে। এ প্রসঙ্গ তারা আরও বলেন শিশুর মৃধা বিকাশের স্বাভাবিক সুযোগ দিতে হবে। চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। এ ধরনের সাতটি প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঠ্যপুস্তকে আত্মহত্যা বিষয়ক প্রবন্ধ লেখা, কাউন্সলিং,গনমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশসহ নানা বিষয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com