বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শ্রীপুরে ইটের ভাটায় পুডছে বনের কাঠ ,পরিবেশ বিপন্ন

খবরের আলো :

 

 

মহিউদ্দীন আহমেদ ,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ শ্রীপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়নে ইটভাটা আছে ১৮টি। এসব ইটভাটার একটিরও ছাড়পত্র (লাইসেন্স) নেই। ইটভাটা স্থাপন সংক্রান্ত আইন না মানায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন এসব ইটভাটার ছাড়পত্র দেয়নি। অবৈধ এসব ইটভাটায় বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
শ্রীপুর উপজেলার বরমী, কাওরাইদ, তেলিহাটি, গোসিংগা, ইউনিয়নে স্থাপিত হয়েছে এসব ইটভাটা। আইন অনুযায়ী আবাসিক এলাকা, বনাঞ্চল, উপজেলা সদর ও ফলের বাগানের ৩ কি:মি মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা নিষিদ্ধ। কোনো এলাকায় ৫০টি বাড়ি ও ৫০টির বেশি ফলের গাছ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে সেখানে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এসব নিয়ম না মেনেই উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮টি ইটভাটার মধ্যে একটি ইটভাটারও অনুমোদন নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে লতিফপুরে স্কুল, মাদরাসা, এতিমখানা সহ ও বরমী ডিগ্রী কলেজ, বরমী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, বরমী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার চিমনির ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, ইটভাটার কারণে এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। প্রতিবছর মাটি তুলে বিক্রির কারণে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
এলাকার লোকজন জানান, বনের কাঠ পোড়ানো হয় এসব ইটভাটায়। পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগের লোকজন এসব দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ইটভাটার মালিকেরা কিছু কয়লা ভাটার সামনে রেখে দেন, কিন্তু সেসব ব্যবহার না করে চুল্লিতে বনের কাঠ পোড়ান।
অনুমোদনহীন ইটভাটা স্থাপন প্রসঙ্গে ইটভাটা মালিক গন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি এবং গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুরে একটি ইট ভাটার মালিক বরকতোল্লা খোকা এবং বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামে স্থাপিত জেএম ব্রিকসের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন করেছি।’ বনের কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়লা খুব কম পাওয়া যায’ তাই বাধ্য হয়ে কাঠ পোড়াচ্ছি।’
এদিকে পুরাতন ইটভাটার কোন ছাড়পত্র না থাকলেও তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলি গ্রামে বনের জমি দখল করে টিনের তৈরি চিমনির মাধ্যমে এএসবি নতুন ইটের ভাটা নির্মান করেছেন সাবেক ইউপি জয়নাল আবেদীন। তাঁর কাছে অনুমোদন ছাড়া কি ভাবে চালু করলেন ভাটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব মেনেচ করেই চালু করছি’ কোনো ইট ভাটার যেহেতু কোন অনুমোদন নেই আমারটা ও কোন প্রয়োজন নেই।
গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের এলবিএম ব্রিকসের মালিক বরকত আলী খোকা বলেন, ‘বেশির ভাগ ইটভাটায় পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। তবে কয়েকটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়েই চালানো হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুল ছালাম সরকার বলেন, শ্রীপরের বেশির ভাগ ইটভাটারই ছাড়পত্র নেই। আর ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী নতুন করে কোন ইটভাটার অনুমোদন দেয়া হয়নি। অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানো হবে।
বন বিভাগের শ্রীপর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুল হক বলেন, ‘এসব অনুমোদনহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, উপজেলার অনেক ইটভাটার অনুমোদন নেই। তবে, কিছু ইটভাটা উচ্চ আদালতের নির্দেশ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আইন অমান্য করে চালানো ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com