বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

শিবপুরে সমিতির কিস্তি পরিশোধ করাকে কেন্দ্র করে মহিলাকে হত্যার চেষ্টা:থানায় অভিযোগ

খবরের আলো :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ঝিটকি গ্রামের মৃত সুলাইমানের ছেলে মোঃ নুর ইসলাম (৫০) এর বিরুদ্ধে এক গৃহ বধুকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে উক্ত গৃহবধুর স্বামী মোঃ মইনুর রহমান (৫৫) বাদি হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর স্বামী মোঃ মইনুর রহমান জানায়, চার মাস আগে মইনুর রহমানের স্ত্রী বেসরকারি এন জিও সংস্থা ব্রাক থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে নুর ইসলামকে দেয় ( প্রতি মাসে কিস্তি নুর ইসলাম পরিশোধ করবে সেই শর্তে)। চার মাসে নুর ইসলাম চারটা কিস্তি পরিশোধ করে। পাঁচ মাসের কিস্তি নিতে ব্রাক কর্মকর্তারা নুর ইসলামের বাড়িতে যায় তখন নুর ইসলাম আর কোন টাকা পরিশোধ করতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন ব্রাক কর্মকর্তাদের। ব্রাক কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী মইনুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে বলে নুর ইসলাম টাকা দিবেনা আপনারা টাকা তুলেছেন আপনারাই টাকা পরিশোধ করবেন। এসময় মইনুর বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী ব্রাক কর্মকর্তা দের আশ্বস্ত করে বলেন আমার স্বামী বাড়িতে আসলে আমি আপনাদের জানাবো বলে সময় নেন। ঐ দিন বিকালে নুর ইসলাম মইনুরের বাড়িতে গিয়ে প্রচন্ড হুমকি দিয়ে বলে আমি কোন টাকা নেয়নি যার নামে টাকা নেওয়া পারলে সেই গিয়ে টাকা পরিশোধ করুক। আমার বাড়িতে সমিতির লোক জদি দ্বিতীয়বার আসে তাহলে তোদের সবকটাকে তুলে নিয়ে জানে মেরে ফেলবো। হুমকি দিয়ে নুর ইসলাম আরও বলে এবিষয়ে কোথাও কিছু বলতে পারবিনা। আমি যা বললাম সেই মতো কাজ করবি। হটাৎ গত ১৯ তারিখ শনিবার রাত ১টার দিকে মইনুরের স্ত্রী প্রকৃতির ডাকে বাহিরে আসলে আর ঘরে না ফিরলে মইনুর ও তার ছেলে মাগফুর রহমান টর্চলাইট নিয়ে বাহিরে খোজাখুজি শুরু করে। খোজাখুজির একপর্যায়ে বাড়ির সামনে সরিসা ক্ষেতে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই এসময় মইনুর অন্ধকারে টর্চ মারলে  ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী জামেলা খাতুনসহ আরও অনেকে, মইনুর ও তার ছেলের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় মইনুর শিবপুর ২ নং ওয়ার্ল্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনকে ২নং ওয়ার্ড মেম্বর মহাদেব সরকারকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে ডাকে। তাদের চিৎকারে সেখানে আরও লোকজন পর্যাক্রমে জড়ো হতে থাকে এসময় তারা মইনুর রহমানের স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মইনুর রহমানের স্ত্রী জানান তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে আঘাত করে নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী জামেলা। সময় মতো আমার স্বামী ও আমার সন্তান না আসলে আমি হয়তো মারা যেতাম। স্থানীয়রা জানান নুর ইসলাম একজন হিংস্র প্রকৃতির মানুষ সে মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে এরকম কাজ এর আগে বহুবার করেছে। এব্যাপারে শিবপুর ইউনিয়নের ২ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারী ও ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সেক্রেটারী  সাজ্জাদ হোসেন বলেন নুর ইসলাম একজন জলদস্যু  ছিলো। সে একসময় শিবপুরের নিমতলায় বসবাস করতো নিমতলার লোকজন তার অত্যাচারে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়, পরে সে ঝিটকি গ্রামে বসবাস শুরু করে, ঝিটকি গ্রামে এসেও নুর ইসলাম এলাকায় চুরি ডাকাতি শুরু করলে তাকে নিয়ে কয়েকদফা সালিশ ও হয়, নুর ইসলামের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে সহ পাঁচটি নাশকতার মামলাও আছে, কয়েকবার জেল খাটার পরে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার ও সে অপকর্ম শুরু করে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহামান জানান এবিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে নুর ইসলামের সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এখন অভিযোগ কারী মইনুর ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার ভিতর দিন যাপন করছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com