সোমবার, ১০ মে ২০২১, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জে অন্তিম গার্মেন্টস শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ শিক্ষার্থী সহ আহত ৫০

খবরের আলো :

 

 

 

সাহাদাৎ হোসেন শাহীন স্টাফ রিপোর্টার :  রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা  এলাকায় অন্তিম  শ্রমিকের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে টিয়ার শেল ও পাদানী গ্যাস  নিক্ষেপ  শিক্ষার্থী সহ আহত হয়েছে ৫০ জন। বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জের বরপা অন্তিম নিটিং এন্ড ডাইং কারখানার শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে ও বকেয়া বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা সিলেট মহাসড়কে নামতে গেলে পুলিশ বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পরিস্থিতি রনক্ষেএ তে পরিনিত হয় নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা এলাকায় আবারো আট দিন পর অন্তিম গার্মেন্টস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মালিক কতৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ৭ টা ৩০ মিনিটে যখন কারখানার সামনে শ্রমিকরা যায়,তখন শ্রমিকরা  কারখানার বন্ধ নোটিশ  দেখতে পায়  অন্তিম গার্মেন্টস , তারপর শ্রমিকরা সব একসাথে একত্রে হয় ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা, ফলে বিরাট যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।এক পর্যায়ে জেলার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ দেখা দিলে  দাওয়া পাল্টা দাওয়া হয়।প্রথমে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুরে এসময় শ্রমিকরা ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে,পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড কাদনি গ্যাস ২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে এ পর্যায়ে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।এসময় নারী পুরুষ শ্রমিক ও স্কুল শিক্ষার্থীসহ অত্যন্ত ৫০ জন আহত হয় আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  ব ব্রিলিয়ান্ট মডেল স্কুলর শিক্ষক সোলেমান স্যার জানান, আমাদের স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী কাদানি গ্যাসে আহত হয়েছে। শিক্ষার্থি হলো, মালিহা (১১)৫ম শ্রেণি,খাদিজা (১০)৫ম শ্রেণি,মুক্তা মনি(৬) প্রি প্লে, যুথি (১১)৫ম শ্রেণি, জান্নাতুল (৭) প্লে,সামিয়া (৮)৩য় শ্রেণি, তোয়াছিন (১৩) ৮ম শ্রেণি,সুর্বনা (১২) ৮ম শ্রেণীতে ক্লাস চলাকালে, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকরা ছুটে যায় কাদানি   গ্যাস শুট করে  ।এ দিকে শ্রমিকরা হাওয়া বেগম জানায় আমাদের ডিসেম্বর মাসের বেতন বকেয়া না দিয়ে অন্তিম গার্মেন্টস নিটিং এন্ড ফিনিশিং গত ১৬/০১/১৯ ইং বুধবার বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে মালিক কতৃপক্ষ,মালিক বলেছে ২৪/০১/১৯ ইং তারিখে বেতন বকেয়া  পরিশোধ করে গার্মেন্টস চালু করবে আজ এসে দেখি আবারো কারখানা বন্ধের নোটিশ এ বিষয়ে ইন্ডাট্রিয়াল পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হক জানান আমার সরকারি আদেশে অন্তিম নিটিং এন্ড ফিনিশিং গার্মেন্টস সামনে জনগণের জান মাল রক্ষার্থে নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান করি বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেলে নিক্ষেপ করে।

আহত শ্রমিক আমেনা, ফারজানা, আসলাম, কাউসার জানান, গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে দেওয়ার কথা ছিলো। সে অনুযায়ী ১০ তারিখে শ্রমিকরা কারখানায় যান। পরে তারা কারখানার গেইটে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে উত্তেজিত হলে কতৃপক্ষ পুনরায় জানুয়ারী মাসের ২৪ তারিখে বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেন। মালিকপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার সামনে এসে গেটে তালা ঝুলানো দেখেন। কারখানা কতৃপক্ষ নোটিশ টানিয়ে চলতি মাসের ৩১ তারিখে বেতন পরিশোধ করার ও ৩০ জানুয়ারী পর্যন্ত কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেন। নোটিশ দেখে শ্রমিকরা

কারখানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ অবস্থান নেন। কয়েকজন শ্রমিক সড়কে নামতে গেলে পুলিশ বাঁধা দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকরা পুলিশের উপড় ঢিল ছোঁড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশের টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জে কারখানার ৩০ শ্রমিক আহত হয়। পুলিশ কারখানার বাহিরে গিয়ে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করায় আশপাশের লিটল ফ্লাওয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুল, বরপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রিলিয়ান্ট মডেল স্কুলের ৩০ জন ছাত্রছাত্রী আহত হয়। গুরুতর আহত স্কুল ছাত্র ঈশিকা , শিফা, রাফিন, নাহিয়ান স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কারখানার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হক বলেন, এ কারখানার বিষয়ে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবেদন দিয়েছি। শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা উচিত। সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিকরা প্রথমে পুলিশের উপড় ঢিল ছোঁড়ে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com