শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক হলেন এইচএম সাইফুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা কায়েসের ঈদ উপহার মাধবপুরে সরকারী নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছে ৩২৮৬৪ পরিবার শ্রীপুরে রুবেলের ছেল মেয়েদের দায়িত্ব নিলেন ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন অনন্ত ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোর-চাকায় ওড়না জড়িয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু মাধবপুরে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন বিবাহ বহির্ভূত একাধিক সম্পর্ক ছিল হেফাজত নেতা জাকারিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই গেলেন করোনা আক্রান্ত হাসি ঈদে তাদের ‘টোনাটুনির গল্প’ অভিনেতার সঙ্গে প্রেম, বিয়ে করছেন ব্যবসায়ীকে

শহীদ আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুররহমান মাসুদ , পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আজ ২৮ জানুয়ারি ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে বরিশালের রাজপথে স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুব-মোনায়েম বাহিনী ইপিআরের গুলিতে নিহত কলাপাড়ার হাজীপুর গ্রামের বীর সন্তান শহীদ আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী। আজও অবহেলায় পার হচ্ছে দিনটি। প্রতিবছরের মতই এবারও কোন অনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবেই কেটে যাচ্ছে মৃত্যুবার্ষিকী।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মৌলভী আর রাশিদা বেগমের একমাত্র পুত্র ছিল আলাউদ্দিন। অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে তার সমাধিস্থল। সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি তার স্মৃতিচিহ্ন। ইতিহাসেও তুলে ধরা হয়নি তাকে যথাযথ ভাবে। বরিশালে নেয়া হয়েছে অশি^নী কুমার হল চত্বওে শহীদ প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা। সবশেষ তার কবরটি কয়েকবছর আগে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে তাঁর সহপাঠিরা দিনটিতে বিশেষ দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করেন। গণঅভ্যুত্থানে পটুয়াখালীর একমাত্র শহীদ বরিশাল একে স্কুলের তৎকালীন সময় নবম শ্রেণির ছাত্র শহীদ আলাউদ্দিনের মহান আত্মত্যাগের কথা এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে।
জন্মের দ’ুবছর পর ১৯৫৪ সালে বাবা মারা যায় শহীদ আলাউদ্দিনের। প্রতিবাদী আর স্বপ্নচারী এ কিশোর হাজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয এবং জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বিধবা মা আর একমাত্র বোনেকে রেখে নবম শ্রেনীতে ভর্তি হন বরিশাল একে স্কুলে। ’৬৯ এর উত্তাল দিনের ২৮ জানুয়ারি সকালে মায়ের কাছে লেখা চিঠি পোস্ট করতে গিয়ে, যোগ দিয়েছিলেন পাকি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মিছিলে। ২৯ তারিখ বিকাল চারটায় পকেটে রাখা রক্তে ভেজা সেই চিঠিসহ মায়ের কাছে ফেরত এসেছিল তার লাশ। গ্রামের বাড়িতে মায়ের চোখের সামনেই দাফন করা তাকে। দাফনের পর থেকেই অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকে এ শহীদের কবর। পাঁচ বছর আগে কবরটি বাধাঁই করা হলেও পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় পালিত হয়না যথাযথভাবে মৃত্যুদিবস। রাজনৈতিক কিংবা সরকারিভাবে তাকে নিয়ে কোন স্মরনসভা। কেবলমাত্র ভাষা দিবসে স্থানীয় বিদ্যাপীঠের ছাত্র-ছাত্রীরা ফুলেল শ্রব্দায় তাকে স্মরন করে।
১৯৭০ সালে বন্যার পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা নিজ চোখে দেখতে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন এই জনপদে বাঙালির মহানায়ক এসে প্রথমেই খোঁজ নেন ছাত্রলীগের কিশোর কর্মী আলাউদ্দিনের পরিবারের। বঙ্গবন্ধু তার মাকে পৌছে দেয়ার জন্য আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতির হাতে দিয়েছিলেন পাঁচশত টাকা। দিয়েছিলেন একটি টিউবয়েল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতবার কলাপাড়ায় এসেছেন ততবারই খোঁজ নিয়েছেন এ পরিবারের।
শহীদ আলাউদ্দিনের সহপাঠী শামসুদ্দিন বরিশালের এ্যাড, খান আলতাফ হোসেন ভুলু জানান, তিনি ওই সময় সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তাঁরা তখন বরিশালে একটি সড়কের নামকরন করেছিলেন শহীদ আলাউদ্দিন সড়ক। বর্তমানে তাঁরা লেবুখালী সেতুর নাম শহীদ আলাউদ্দিন সেতু নামকরনের প্রস্তাবনা লিখিতভাবে সরকারের উপর মহলে দিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com