শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১১:১৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মানিকগঞ্জে যুবলীগ নেতা সুমনের ব্যবস্থাপনায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ইদ বস্ত্র বিতরণ কোভিড যুদ্ধে এবার রণাঙ্গনে বিরুস্কা শ্রীপুরে ককটেল রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী তিন যুবক ও এক নারী আটক মানিকগঞ্জে বোরো ধানকাটার উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক অসহায় মানুষের পাশে ঈদ উপহার নিয়ে দাড়াল সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সুমন বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে দুই ছেলের অমানবিক নির্যাতন! বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ রীতি ভেঙে স্বামীকে মঙ্গলসূত্র পরিয়ে বিয়ে, অতঃপর..! ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য- সংশয় কাটেনি সন্দ্বীপবাসীর রাশিয়ার সেই এক ডোজের টিকা উৎপাদন হবে ভারতে

আমতলীতে ফসলি জমির মাটি ইট ভাটায়

খবরের আলো :

 

 

আমতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে জনবসতি এলাকায় স্থাপিত ইটভাটা গুলোতে কৃষকদের ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইট ভাটায়। ফলে ফসলি এই জমিগুলো উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। মাটি কেটে নেওয়া এ জমিগুলোতে ধানের তিনটি ফসল ভালো উৎপাদন হতো। ফসল উৎপাদনে জমির উপরের অংশের মাটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত এই উপজেলার ফসলি জমিগুলো ভবিষ্যতে বন্ধ্যা জমিতে পরিণত হবে। আর বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ৭ টি ইউনিয়নে মাঠ থেকে আমন ধান কাটার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ভেকু (খনন যন্ত্র) দিয়ে কেটে ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। আমতলী উপজেলায় ইট ভাটা রয়েছে মোট ১৪টি। মাটি পরিবহন ট্রলি ও ট্রাকগুলো যেনতেনভাবে মাটি ভর্তি করে মহাসড়ক ও গ্রামের রাস্তাগুলোতে চলাচল করায় রাস্তার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
এতে বর্ষা আসলেই পাকা রাস্তার প্লাস্টার উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জমিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এই উপজেলায় দেদারছে মাটি ভাটায় নেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
চার-পাঁচজন কৃষক জানায়, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য একশ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায়। পরে স্বল্প মূল্যে জমির উপরিভাগের এসব মাটি কেটে কিনে নেয়। দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনে সহজ-সরল কৃষকেরা নগদ লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করেন। অপর দিকে ইটভাটাটা গুলো সকল প্রকার আইন কানুন অমান্য করে কাঠ পুড়িয়ে ইটতৈরি করছে।
উপজেলার খেকুয়ানী গ্রামের মুন্সী ইটভাটাসহ বিভিন্ন ইটভাটায় ট্রাক ও ট্রলিতে করে মাটি ক্রয় করে ইটভাটায় মাটি এনে ইট তৈরি করেন।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস,এম বদরুল আলম বলেন, জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে গেলে উর্বরতা শক্তি কমে যায়। ইটভাটায় উপরের অংশের মাটি দিলে আগের মতো উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে ১০-১২ বছর সময় লাগে। মাটি বিক্রি করে সাময়িক অভাব দূর হলেও ক্ষতি হয় অনেক বেশি। এভাবে উর্বর মাটি ভাটায় চলে গেলে ভবিষ্যতে ৩০-৩৫ শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে এমন আশঙ্কা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
এই বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, যারা ফসলি জমি থেকে মাটি ভাটায় নিয়ে ইট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com