শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাইডেনের শপথের সব আয়োজন সম্পন্ন, নজিরবিহীন নিরাপত্তা শিগগিরই ভ্যাকসিন বিতরণ কার্যক্রম শুরু : সংসদে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে অবৈধ ৩টি ইটভাটায়  ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন ১৪ জানুয়ারি বেলকুচিতে আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আটক স্পেনে তীব্র তুষারপাতে জনজীবন অচল: যান চলাচল বন্ধ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার দোহারে অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙ্গে দিল প্রশাসন  সালমান এফ রহমানের দোহার – নবাবগঞ্জে উন্মুক্ত হলো ওয়াজ মাহফিল বদলগাছীর কোলা ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন চেয়ারম্যান স্বপন

পা দিয়ে লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তামান্না

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

শনিবার থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না নূরা (১৬)। জন্ম থেকে তার দুই হাত নেই। নেই একটি পা। এই একটি পা নিয়েই খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, পড়াশুনা থেকে শুরু করে জীবনের সব কাজ করতে হয়।

ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। নানা প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে তামান্না এর আগে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার মাধ্যমে আলোচিত হয়। তামান্না নূরা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভিন শিল্পি দম্পতির প্রথম সন্তান। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তামান্না সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করেছেন তার পিতা-মাতা, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

তামান্নার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে তামান্না নূরা জন্মগ্রহন করে । হাসপাতালে মা জ্ঞান ফিরেই দেখেন তার জন্ম দেওয়া প্রথম কন্যা শিশুর দুটি হাত ও একটি পা নেই । দারিদ্রতার সংসার, বেকার স্বামী । বাসায় ফিরে সামাজিকভাবে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছে। বেড়ে উঠা শিশুটির চাহনি, মেধা মায়ের মনে সাহস যোগান দিয়েছিল। বাসা থেকে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা সহজ ছিল না। মায়ের কাছে প্রথমে অক্ষর জ্ঞান নিতে থাকে তামান্না বাসা সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজমাইন এডাস স্কুলের কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি হয় নার্সারিতে। তখন মা ক্লাসে তাকে বসিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতেন।

তামান্নার মা খাদিজা জানান, তামান্নার শ্রবণশক্তি ও মুখস্থশক্তি এত ভালছিল যে একবার শুনলেই আয়ত্ব করতে পারতো। সে অক্ষর লেখা শুরু করে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরে। তারপর একইভাবে কলম ধরে লেখা আয়ত্ব করে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, আঙুলের ফাকে চিরুনি, চামচ দিয়ে খাওয়া, চুল আঁচড়ানো সহজে আয়ত্ব করে তামান্না। ধীরে ধীরে নিজের ব্যবহারিত হুইলচেয়ারটি এক পা দিয়ে চালানোর দক্ষতা সকলের নজরে আসে। নিজ বিদ্যালয়ে কেজি, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ফলাফলে মেধাতালিকার পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিবারই সে বৃত্তি পেয়েছে। লেখাপড়ার ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে আজমাইন এডাস স্কুল থেকে পি.এস.সি ও ২০১৬ সালে বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

শনিবার প্রথম পরীক্ষায় তামান্না নূরাকে পিতা রওশন আলী হুইল চেয়ারে বসিয়ে তিনতলায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তামান্নার সিট খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে আবার দ্বিতীয় তলায় এনে ২০৯ নম্বর কক্ষে বসতে দেয়া হয়। তার বসার জায়টিও কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে করেনি। পরে একটি চৌকি নিয়ে তাকে বসে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে তামান্নার পিতা রওশন আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি কেন্দ্র সচিবের কাছে অনুরোধ করেছিলাম বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিচের তলায় পরীক্ষার্থীদের ব্যবস্থা করতে কিন্ত সেটা হয়নি। হুইলচেয়ারে করে মেয়েকে নিয়ে উঠতে অনেক সমস্যা ও কষ্ট হয়। তিনি তামান্নার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com