বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

ডাকসুতে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের প্যানেলে থাকছেন যারা

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরগরম ক্যাম্পাস। প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন ঘিরে ঢাবিতে ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে।

তবে ভোটারদের মূল দৃষ্টি থাকছে প্রধান দুই ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের প্যানেল ঘিরে। কারা থাকছেন এ দুই সংগঠনের প্যানেলে সেটিই এখন চায়ের কাপে আলোচনার ঝড় তুলছে।

ডাকসুর ভিপি-জিএস ও এজিএস প্রধান এ তিন পদে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেটি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এসব পদে মনোনয়ন পেতে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ছাত্র নেতাদের তুমুল দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রার্থী হতে রাত-বিরাত পর্যন্ত মূল দল ও ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।

এ তিন শীর্ষ পদে প্রার্থী হতে না পারলে অন্তত ২২ সদস্যের ছাত্র সংসদের যে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন বগলদাবা করার চেষ্টাও রয়েছে অনেকের মধ্যে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি আছে, নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর রেকর্ড নেই, ফল ভালো এবং সাংগঠনিক প্রজ্ঞার অধিকারীদেরই ভিপি-জিএস-এজিএস পদে ভাবা হচ্ছে।

পাশাপাশি আদর্শিক মিল আছে- এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদেরও নেয়া হতে পারে প্যানেলে। হল সংসদ শাখার বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতা এবং যারা নতুন করে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী তারা অগ্রাধিকার তালিকায়।

প্যানেলে চমক রাখার চেষ্টা করছে সংগঠনগুলো। জোটগতভাবে ভোটে অংশ নেয়া ছাড়াও ৫টি ছাত্রী হলের প্রায় ১৫ হাজার নারী ভোটারকে টার্গেট করে পর্যাপ্তসংখ্যক ছাত্রী, ১৬ হাজারের মতো অনাবাসিক ভোটারের কথা চিন্তা করে হলের বাইরের শিক্ষার্থীদেরও প্যানেলে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক ভোট টানার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ ১৪ দলের ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবে। এ লক্ষ্যে ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ (বিসিএল) ও ছাত্র সমিতির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।

এদিকে ছাত্রদল এককভাবে নির্বাচনে আসতে পারে। তবে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি সংগঠনটি।

এ ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট মিলে প্যানেল করতে পারে ছাত্রদল। প্রগতিশীল ছাত্রজোটে ৬টি সংগঠন রয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলোর যে ৫২ শীর্ষ নেতাকে চিঠি দিয়েছে, তাদের মাত্র ছয়জন নিয়মিত অনার্স ও মাস্টাসের্র ছাত্র। বাকিদের বড় একটি অংশ সান্ধ্যকালীন কোর্স, স্পেশাল মাস্টার্সসহ বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি আছেন।মূলত এদের মধ্য থেকেই ভিপি-জিএস পদে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ

ডাকসুতে গ্রহণযোগ্য নেতাদের মনোনয়ন দেবে ছাত্রলীগ। এ জন্য প্রাধান্য পাবে ক্লিন ইমেজ, পারিবারিক পটভূমি, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও মেধা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এবং ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের বয়সও ৩০-এর মধ্যে। ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনকে ভিপি-জিএস পদে ভাবা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও আলোচনায় আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস যুগান্তরকে বলেন, প্যানেল গঠনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে মনোনয়ন বোর্ড হবে। তারাই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। মেধাবী, ক্লিন ইমেজ এবং ছাত্রবান্ধব নেতারাই আসবে প্যানেলে।

ছাত্রদল

ডাকসুতে প্যানেল দিতে গিয়ে বিপাকে ছাত্রদল। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সবসময়ই বয়স্ক নেতাদের বেছে নেয় বিএনপি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ও ঢাবি ছাত্রদলের বহু নেতা বয়সের কারণে প্যানেলে থাকতে পারছেন না।

৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ছাত্রদলকে প্যানেল গঠনে বেগ পেতে হবে। ছাত্রদলের সাত শতাধিক সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগেরই বয়স ৩০-এর বেশি।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাবি বাংলা বিভাগে ভর্তি হন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ভর্তি হন ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন তৎকালীন সংস্কৃত ও পালি বিভাগে ভর্তি হন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মূল নেতাদের কেউ-ই সম্ভবত প্রার্থী হতে পারছেন না। এ কারণে যোগ্য প্রার্থী সংকট দেখা দিতে পারে বিএনপির ভ্যানগার্ড ছাত্রদলে।

ছাত্রদলের প্যানেলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির ছাত্রদল সভাপতি আবুল বাশার সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, প্রশাসন ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে। প্রার্থিতা যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের কথা চিন্তা করেই। তবু আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও হলপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। তফসিল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গ্রহণযোগ্যতা আছে, বিগত দিনে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, ছাত্রবান্ধব, মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই প্যানেলে রাখা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com