শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৩:২০ অপরাহ্ন

ঢাকার কাছে হেরে চিটাগংয়ের বিদায়

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

ঢাকার কাছে হেরে বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসর থেকে বিদায় নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই মুশফিকুর রহীমের দল নিশ্চিত করেছিল শেষ চারে খেলা। মূলত অধিনায়কের হাত ধরেই এলিমিনেটর পর্বে খেলার সুযোগ হয় ভাইকিংসের। এবার অংশ নেয়ারই কথা ছিল না চিটাগংয়ের। শেষ পর্যন্ত সাদামাটা দল নিয়েই মাঠে নামে তারা। অধিনায়ক হিসেবেও মুশফিকের চ্যালেঞ্জ ছিল বিপিএলের নেতৃত্বে তার অতীত ব্যর্থতার রেকর্ড থেকে বের হয়ে আসার। অবশেষে শুধু নেতৃত্ব দিয়েই নয় ব্যাট হাতে দলকে গ্রুপ পর্বে ১২ ম্যাচে ৭ জয় এনে দেন। তবে এলিমিনেটর পর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই সাদামাটা।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৩৫ রান। এরপর বল হাতেও গড়তে পারেনি প্রতিরোধ। জবাব দিতে নেমে ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে ঢাকা দেখছে ফাইনালের স্বপ্ন। অথচ সাকিব আল হাসানের দলের গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ার শঙ্কা জেগেছিল। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে নিশ্চিত করে শেষ চারে খেলা। যদিও এখনো তাদের জন্য আরো বড় বাধা রয়ে গেছে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পরীক্ষা দিয়েই তাদের নিশ্চিত করতে হবে ফাইনাল। ঢাকার নয়া ব্যাটসম্যান লঙ্কান তারকা উপুল থারাঙ্গা ফিফটি হাঁকান।  তবে  সুনীল নারাইন বল হাতে ৪ উইকেট ও ব্যাট হাতে ৩১ রান করে দলকে ফাইনালের দৌড়ে রেখে হয়েছেন ম্যাচসেরা।
এলিমিনেটরে হারলেই বাদ। আর জিতলে বেঁচে থাকবে ফইনালের আশা। তাই ঢাকা ডায়নামাইটস ও ভাইকিংসের জন্য এই ম্যাচ ছিল দারুণ উত্তেজনার। টসে জিতেই চিটাগং শুরু করেছিল টিকে থাকার লড়াই। কিন্তু এদিন ঢাকার স্পিনার সুনীল নারাইন ও সাকিবের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ভাইকিংস ব্যাটসম্যানরা। এদিন ব্যাট হাতে ওপেন করতে নেমেছিলেন তরুণ ইয়াসির আলী। সঙ্গে ক্যামেরন ডেলপোর্ট। ওপেনিং জুটিতে মাত্র ৩ ওভারেই ২২ রান আসে। কিন্তু ওপেনিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া তরুণ ইয়াসির আলীকে ব্যক্তিগত ৮ রানেই বিদায় করেন পেসার রুবেল হোসেন। তবে ধাক্কা সামলে দলের হাল ধরেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও সাদমান ইসলাম কিন্তু দারুণ খেলতে থাকা ডেলপোর্ট শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৫ চার ও এক ছয়ে ৩৬ রান করে থামেন। তার বিদায়ে দলের হাল ধরতে আসেন অধিনায়ক মুশফিক। ১৩ ম্যাচে ৩ ফিফটিতে ৪২৬ রান করে বিপিএলের এই আসরে সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকাতে দ্বিতীয় স্থানে এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। কিন্তু গতকাল তিনি নারাইনের প্রথম শিকার হয়ে আউট হন মাত্র ৮ রান করেই।
এরপর ৯ বলে ২৪ রান করা সাদমানকে দ্বিতীয় শিকার বানান নারাইন। ৮১ রানে ৪ উইকেট পতনে দল যেন খেই হারিয়ে ফেলে। শুধুমাত্র মোসাদ্দেক হোসেনই লড়াই চালিয়ে যান। তাকে সঙ্গ দিতে এসে পরের চার ব্যাটসম্যানের কেউই স্পর্শ করতে পারেনি দুই অঙ্ক। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক রান আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে করেন ৪০ রান। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় ভাইকিংস।
জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরু করেন ঢাকার দুই ওপেনার। সুনীল নারাইনকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েন থারাঙ্গা। এই জুটি ভাঙে নারাইন ৩১ রানে আউট হলে। তবে দলকে বিপদে পড়তে দেননি রনি তালুকদার। থারাঙ্গা তার সঙ্গে ফের বাঁধেন ৪৪ রানের জুটি। তাতেই জয়ের পথ দেখে ঢাকা। রনি ১৩ বলে ২০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন। পরের বলেই সাকিবকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান খালেদ আহমেদ। কিন্তু নূরুল হাসান সোহান তা হতে দেননি। সেই সঙ্গে থারাঙ্গা ফিফটি তুলে নেন। ৪৩ বলে ৭ চারে ৫১ রান করে আউট হন তিনি। তখন অবশ্য ৪৫ বলে  তাদের দরকার ৩৪ রান। সেখান থেকে সহজেই সোহান ২০ বলে ২০ আর পোলার্ড   ৭ বলে ৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com