মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

তামিম ঝড়ে ঢাকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

তামিমের অতিমানবীয় ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মত বিপিএল শিরোপা জিতে নিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

তামিম ইকবালের নান্দনিক শর্টে যেন মাতাল হয়ে গেল মিরপুরের গ্যালারিতে থাকা ২১ হাজার দর্শক। এটি ছিলো তামিমের প্রথম বিপিএল ফাইনাল ম্যাচ। তাই স্কোরটাও স্মরণীয় করে রাখলেন।

ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

বিপিএলে কুমিল্লার এটি দ্বিতীয় শিরোপা। ২০১৬ আসরের শিরোপা জয়ী ঢাকা রানার্সআপ হলো টানা দ্বিতীয়বার।

মিরপুরে শুক্রবার ২০ ওভারে কুমিল্লা তোলে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান। তামিমের একার ব্যাট থেকেই এসেছে ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১! রান তাড়ায় ঢাকা এক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ জানালেও পরে পথ হারিয়ে থমকে গেছে ১৮২ রানে।

এর আগে প্রথমে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তামিমের সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা।

২০০ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই রান আউট হন নারাইন। শিরোপা জয়ের ম্যাচে নারাইনের শূন্য রানে চলে যাওয়ায় চাপে পড়ে ঢাকা। কিন্তু সেই চাপ থেকে মুহূর্তেই স্বস্তি নিয়ে আসেন রনি তালুকদার ও থারাঙ্গা।

এই দুই ব্যাটসম্যানের ঝড় ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা। ২৬ বলে রনি দুর্দান্ত ফিফটি করার পর ঢাকার জয়ের লক্ষ্য আরও সহজ থাকে।

এরপর খেলার ৯ ওভারের মাথায় ৪৮ রান করে থারাঙ্গা ক্যাচ আউট হলে ভেঙে যায় ১০২ রানের জুটি ।থারাঙ্গার বিদায়ের পর আবার চাপে পড়ে ঢাকা। কিন্তু সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন সাকিব আল হাসান।

ওহাবের বলে ৩ রানে ক্যাচ আউট হন। সাকিবের বিদায়ের দুই ওভার পরেই ব্যাটিং ঝড় তোলা রনি তালুকদার পোলার্ডের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়ে। থেমে যায় ঢাকার রানের চাকা। এরপর উইকেটে আসেন বিধবংসী রাসেল। কিন্তু জ্বলন্ত রাসেলকে এই দিন যেন ঘুম পাড়িয়ে দিলেন পেরেরা। ১৪ ওভারের সময় বড় শর্ট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন রাসেল।

রাসেলকে হারিয়ে ঢাকা তখন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। এরপর উইকেটে থাকা পোলার্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে ঢাকার দর্শকরা। কিন্তু তিনিও সবাইকে নিরাশ করে মাত্র ১৩ রান ওহাবের বলে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে যান সাজ ঘরে।

এরপর খেলা গড়ায় শেষের দিকে ১২ বলে ঢাকার প্রয়োজন হয় ৩৩ রানের । উইকেটে থাকা সোহান ও মাহমুদউল কুমিল্লার বোলারদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা করতে ব্যর্থ তাঁরা। অবশেষে ১৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিবরা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের শুরুটা রাঙাতে পারেননি কুমিল্লার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এভেন লুস। মাত্র ৬ রান করে রুবেলের বলে এলবিডব্লিউ আউট হন। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ব্যাটিংয়ে ধাক্কা খায় কুমিল্লা।

লুইসের বিদায়ের পর তামিমের সাথে ব্যাটিং করতে আসেন বিজয়। বিজয়কে নিয়ে ৩১ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ফিফটি করেন তামিম। শুধু ফিফটি করেই শান্ত হন না এই বা-হাতি ব্যাটসম্যান। বিজয়ের বিদায়ের পর ইমরুল কায়েসকে নিয়ে খেললেন বিপিএল ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস।

৬১ বল মোকাবেলা করে করলেন ১৪১ রানের বিরাট এক ইনিংস। আর পাঁচটি রান করলে তাঁর ইনিংসটাই হতো বিপিএলের সেরা ইনিংস। এর আগে বিপিএলে গেইল ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন যেটি এখনো বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (তামিম ১৪১*, লুইস ৬, এনামুল ২৪, শামসুর ০, ইমরুল ১৭*; রাসেল ৪-০-৩৭-০, রুবেল ৪-০-৪৮-১, সাকিব ৪-০-৪৫-১, নারাইন ৪-০-১৮-০, অনিক ২-০-১৯-০, শুভাগত ১-০-১৪-০, মাহমুদুল ১-০-১২-০)।

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৮২/৯ (থারাঙ্গা ৪৮, নারাইন ০, রনি ৬৬, সাকিব ৩, পোলার্ড ১৩, রাসেল ৪, সোহান ১৮, শুভাগত ০, মাহমুদুল ১৫, রুবেল ৫*, অনিক ১*; সাইফ ৪-০-৩৮-২, মেহেদি ৩-০-৩০-০, ওয়াহাব ৪-০-২৮-৩, সঞ্জিত ১-০-১০-০, আফ্রিদি ৪-০-৩৭-০, থিসারা ৪-০-৩৫-২)।

ফল: কুমিল্লা ১৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: তামিম ইকবাল

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: সাকিব আল হাসান 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com